সড়কের মাঝে শতাধিক বৈদ্যুতিক খুঁটি রেখেই চলছে ঢাকা বাইপাস চার লেনে উন্নীতকরণ কাজ

ঢাকা বাইপাস সড়কের নারায়ণগঞ্জ বন্দর অংশের মদনপুর থেকে ভুলতা-গাউছিয়া পর্যন্ত এলাকায় সড়কের মাঝখানে ও সার্ভিস লেনে শতাধিক বৈদ্যুতিক খুঁটি রেখেই চার লেনে উন্নীতকরণ ও পাকা করার কাজ প্রায় সম্পন্ন করা হয়েছে। খুঁটি অপসারণ না করে সড়কের কাজ চালিয়ে যাওয়ায় যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন চালক, যাত্রী, কর্মরত শ্রমিক-কর্মচারী ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

জানা গেছে, গাজীপুরের ভোগড়া থেকে নারায়ণগঞ্জ বন্দরের মদনপুর পর্যন্ত ৪৮ কিলোমিটার দীর্ঘ এশিয়ান হাইওয়ে সড়কটি চার লেনে উন্নীত করার কাজ শুরু হয় ২০১৯ সালে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) প্রকল্পের আওতায়। ভূমি অধিগ্রহণ ও নির্মাণ ব্যয়সহ প্রকল্পটির মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ হাজার ৭২৩ কোটি ৭৯ লাখ টাকা।

নানা জটিলতায় দীর্ঘ সাত বছর ধরে কাজ ধীরগতিতে চললেও চলতি বছরের (২০২৬) ডিসেম্বর মাসের মধ্যে এর নির্মাণকাজ শেষ হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

স্থানীয়দের অভিযোগ, উন্নয়নকাজ শুরু হলেও নিরাপত্তার বিষয়টি একেবারেই উপেক্ষিত হয়েছে। বন্দর উপজেলার বাসিন্দা সেলিম ও দ্বীন ইসলাম বলেন, ‘ঢাকা বাইপাস সড়কের নির্মাণকাজ হওয়ায় আমরা অনেক খুশি। কিন্তু সড়কের মাঝখানে বৈদ্যুতিক খুঁটি রেখে কাজ চলছে এবং অনেক স্থানে পাকা করা হচ্ছে। এসব খুঁটি চালক ও যাত্রীদের জন্য ভয়াবহ বিপদের কারণ হতে পারে। এখনই এগুলো অপসারণ না করা হলে পরে কর্তৃপক্ষ আর গুরুত্ব দেবে না।’ 

প্রাইভেটকার চালক মিজানুর রহমান বলেন, ‘দেশের অনেক মহাসড়কে গাড়ি চালিয়েছি, কিন্তু সড়কের মাঝখানে বৈদ্যুতিক খুঁটি রেখে কাজ করতে আগে দেখিনি। এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন পণ্যবাহী ভারী যানবাহন চলাচল করে এবং গাড়ির গতিও বেশি থাকে। ফলে দুর্ঘটনার আশঙ্কা অনেক বেশি।’ 

ঢাকা বাইপাস সড়কের উন্নয়ন প্রকল্পের রি-সেটেলমেন্ট অফিসার ফারদিন ইমাম বলেন, ‘বৈদ্যুতিক খুঁটি অপসারণের জন্য পল্লী বিদ্যুৎ বিভাগকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। মৌখিকভাবেও একাধিকবার বিষয়টি জানানো হয়েছে। তাদের গাফিলতির কারণে নির্মাণকাজও ধীরগতিতে চলছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত তাদের কোনো কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি।’ 

এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার প্রকৌশলী শেখ মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘সড়ক নির্মাণের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সময়মতো খুঁটি বসানোর স্থানে মাটি ভরাট করে দিতে না পারায় খুঁটিগুলো অপসারণ করা যাচ্ছে না। প্রতিদিন অল্প অল্প করে এ ধরনের কাজ করা সম্ভব নয়, কারণ অন্য গ্রাহকদের বিদ্যুৎ সরবরাহের বিষয়টিও বিবেচনায় রাখতে হয়। আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বারবার সড়কের দুই পাশে মাটি ভরাট করে দেওয়ার জন্য বলেছি। তা করা হলে একসঙ্গে দ্রুত খুঁটিগুলো অপসারণ করা সম্ভব হবে।