রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সহ-সভাপতি (ভিপি) মোস্তাকুর রহমান জাহিদের সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ‘ব্যবস্থা নেওয়ার’ হুমকিমূলক ও ঔদ্ধত্যপূর্ণ মন্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন সাংবাদিক সংগঠন। একই সঙ্গে ভিপি নিঃশর্ত ক্ষমা না চাওয়া পর্যন্ত রাকসুর সব কার্যক্রমের সংবাদ সংগ্রহ ও প্রচার বয়কটের ঘোষণা দিয়েছে তারা।
বুধবার (২৯ জুলাই) রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি (রাবিসাস), রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসক্লাব ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার্স ইউনিটির (রুরু) যৌথ বিবৃতিতে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার জ্ঞানচর্চা ও গবেষণার অন্যতম প্রাণকেন্দ্র। প্রক্টর দপ্তরে সৃষ্ট অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাকসু ভবনে হামলা এবং পরে রাকসু ও শাখা ছাত্রশিবিরের শীর্ষ নেতাদের উপস্থিতিতে গ্রন্থাগারে ঢুকে হামলা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশকে নিন্দনীয়ভাবে বিঘ্নিত করে। এ নিয়ে রাকসু আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন করলে ভিপি সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ বা প্রমাণ ছাড়াই সাংবাদিকদের নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের পক্ষপাত করার অভিযোগ করেন। নিজের বক্তব্যে তিনি ছাত্রলীগের পক্ষে মায়াকান্নাসহ একাধিক ট্যাগ দেওয়ার পাশাপাশি সাংবাদিকদের ‘জড়ো করে ব্যবস্থা’ নেওয়ার হুমকি দেন। এ ছাড়াও রাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাহউদ্দিন আম্মারসহ কয়েকজন নেতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সাংবাদিকদের কটাক্ষ করে মন্তব্য প্রকাশ করেন বলেও অভিযোগ করা হয়।
তিন সংগঠনের সাংবাদিক নেতারা বলেন, সংবাদ সম্মেলন ডেকে রাকসু ভিপির এমন বক্তব্য সাংবাদিকদের জন্য চরম অপমানজনক। কোনো সংবাদ নিয়ে আপত্তি থাকলে তিনি এ নিয়ে প্রতিবাদ দিতে পারেন। কিন্তু সংবাদ প্রকাশের জেরে নির্বাচিত ছাত্র প্রতিনিধির মাধ্যমে সাংবাদিকদের ট্যাগিং ও হুমকি দেওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধীন সাংবাদিকতাকে বাধাগ্রস্ত করে। কোনো সংগঠন সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ হলে তার বিরুদ্ধে আইনগত বা প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার এখতিয়ার কেবল রাষ্ট্র ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার। ছাত্র সংসদ বা তার কোনো প্রতিনিধি রাষ্ট্রের আইন প্রয়োগকারী সংস্থার বিকল্প হতে পারে না।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, রাকসুর ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ প্রকাশ্যে নিঃশর্ত ক্ষমা না চাওয়া পর্যন্ত তিন সাংবাদিক সংগঠনের সদস্যরা রাকসুর সব কর্মসূচির সংবাদ সংগ্রহ থেকে বিরত থাকবেন। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ক্ষমা না চাইলে সারা দেশের সাংবাদিকদের সঙ্গে নিয়ে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।
যৌথ বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সভাপতি মীর কাদির, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসক্লাবের সভাপতি আশিকুল ইসলাম ধ্রুব এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি নূর আহসান।
এর আগে গত সোমবার ক্যাম্পাসে দফায় দফায় মারামারির ঘটনায় ‘রাকসু ও ছাত্রশিবিরের বিরুদ্ধে’ সংবাদ প্রকাশের অভিযোগ তোলেন রাকসুর ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ। মঙ্গলবার সংবাদ সম্মেলেন তিনি সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দিয়ে বলেন, ‘এত মায়াকান্না করা যাবে না। আপনারা সাংবাদিকেরা যেসব শব্দ ব্যবহার করেন, এগুলোর বিরুদ্ধে আমরা ব্যবস্থা নেব। আপনারা কালকে ছাত্রলীগকে ডিফেন্স করে অনেকে নিউজ করেছেন। এই সাংবাদিক এখানেও অনেকে আছে। আমরা সেগুলো জড়ো করে করে এখানে ব্যবস্থা নেব। আপনারা বলেছেন, আমরা হামলা করেছি। এটা কোন ধরনের কথা? তারা হামলা করেছে, আমরা প্রতিরোধ করেছি। আপনারা এই শব্দ বলতে এত কাঁপাকাঁপি করেন কেন? আর আপনারা এত মায়াকান্না দেখান কেন ছাত্রলীগের প্রতি?’
রাকসু ভিপির এমন মন্তব্যে ক্ষোভ প্রকাশ করেন সাংবাদিকরা।