হিজবুল্লাহকে সহায়তার অভিযোগেও দোষী সাব্যস্ত হলেন লেখক সালমান রুশদির ছুরিকাঘাতকারী

যুক্তরাষ্ট্রে লেখক সালমান রুশদিকে ছুরিকাঘাতের ঘটনায় অভিযুক্ত হাদি মাতার এবার ফেডারেল সন্ত্রাসবাদ মামলায়ও দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। বুধবার (২৯ জুলাই) নিউইয়র্কের একটি ফেডারেল আদালতের জুরি তাকে সব অভিযোগে দোষী ঘোষণা করেন। রয়টার্সের এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়। 

প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ বেশ কয়েকটি দেশ হিজবুল্লাহকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে।

বাদীপক্ষের আইনজীবী জানান, ১৯৮৯ সালে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি (যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের হামলায় নিহত) সালমান রুশদির মৃত্যুদণ্ডের ফতোয়া জারি করেছিলেন। ওই ফতোয়া মাতারকে হামলা চালাতে উদ্বুদ্ধ করে।

এছাড়া ২০০৬ সালে হিজবুল্লাহর তৎকালীন নেতার দেওয়া এক ভাষণে ওই ফতোয়া কার্যকর করার আহ্বান জানানো হয়েছিল। সেই আহ্বানে সাড়া দিয়ে মাতার প্রায় দুই বছর ধরে হামলার পরিকল্পনা করেন বলে বাদীপক্ষ আদালতকে জানিয়েছে।

মার্কিন সহকারী অ্যাটর্নি টিমোথি লিঞ্চ বলেন, ‘এ ঘটনা অন্য কেউ ঘটাবেন না; তাই আসামি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, তাকেই এ কাজ করতে হবে।’

বিচার চলাকালে ২৮ বছর বয়সী হাদি মাতারের একটি ভিডিও আদালতে উপস্থাপন করে বাদীপক্ষ। একইসঙ্গে সাক্ষ্য দেওয়ার সময় রুশদিকে তার ওপর চালানো হামলা সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তার গাল, বুক, চোখ, গলা, ঊরুসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে মোট ১৫ বার ছুরিকাঘাত করা হয়েছিল।

বিচার চলাকালে আদালতে সাক্ষ্য দেন সালমান রুশদি। তিনি জানান, হামলার পর তিনি মঞ্চে পড়ে ছিলেন। তার চারপাশ রক্তে ভেসে গিয়েছিল। ফায়ার সার্ভিসের একজন কর্মী দ্রুত চিকিৎসা দিয়ে তাকে বাঁচিয়েছিলেন।

হাদি মাতার এর আগেই একই হামলার ঘটনায় করা অঙ্গরাজ্য পর্যায়ের হত্যা চেষ্টার মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। সেই মামলায় তিনি বর্তমানে ২৫ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন। নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের বাফেলো শহরের ফেডারেল জেলা আদালতে এই মামলার বিচার হয়।

আদালতের জুরি প্রায় দুই ঘণ্টা আলোচনা শেষে সর্বসম্মতভাবে হাদি মাতারকে দোষী ঘোষণা করেন। ফেডারেল মামলায় তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, যুক্তরাষ্ট্রের সন্ত্রাসী সংগঠনের তালিকাভুক্ত ইরান-সমর্থিত লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহকে সহায়তা দেওয়ার চেষ্টা, আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকা এবং সন্ত্রাসী সংগঠনকে সহায়তা করা। গত মঙ্গলবার এই মামলার বিচার শুরু হয়েছিল। মাত্র এক দিনের শুনানি শেষে গতকাল রায় ঘোষণা করা হয়।

২০২২ সালের ১২ আগস্ট নিউইয়র্কে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মঞ্চে রুশদির ওপর হামলা চালানো হয়। হামলাকারী মঞ্চে উঠে রুশদি ও তার সাক্ষাৎকার নেওয়া ব্যক্তির ওপর হামলা করেন। রুশদির মুখমণ্ডল ও ঘাড়ে বেশ কয়েকবার ছুরিকাঘাত করা হয়। তার একটি হাতের কর্মক্ষমতাও চলে যায়।

১৯৮১ সালে ‘মিডনাইটস চিলড্রেন’ বই লিখে খ্যাতি অর্জন করেন সালমান রুশদি। কিন্তু ১৯৮৮ সালে চতুর্থ বই ‘দ্য স্যাটানিক ভার্সেস’–প্রকাশিত হওয়ার পর থেকে তিনি হত্যার হুমকি পেয়ে আসছিলেন। এ বইয়ের জন্যই আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি রুশদির মৃত্যুদণ্ডের ফতোয়া জারি করেছিলেন। সেই সঙ্গে তার মাথার দাম হিসেবে ৩ মিলিয়ন (৩০ লাখ) ডলার পুরস্কার ঘোষণা করা হয়। পরে তাকে টানা ৯ বছর আত্মগোপনে থাকতে হয়। বইটিতে ইসলাম ধর্মের অবমাননা করা হয়েছে বলে মনে করেন অনেকে।

হামলার অভিজ্ঞতা ও সুস্থ হয়ে ওঠার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা নিয়ে রুশদি পরে ‘নাইফ: মেডিটেশনস আফটার অ্যান অ্যাটেম্পটেড মার্ডার’ শিরোনামে একটি স্মৃতিকথা প্রকাশ করেন। গত বছর তার নতুন কথাসাহিত্য ‘দ্য ইলেভেনথ আওয়ার’ প্রকাশিত হয়।