সোহাগের ইতালির স্বপ্নযাত্রা থামলো লিবিয়ায়, গুলি করে হত্যার অভিযোগ পরিবারের

মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার মজুমদারকান্দি গ্রামের সোহাগ মুন্সী। তাকে ইতালি পাঠানোর স্বপ্ন দেখিয়ে তাকে লিবিয়ায় নিয়ে বন্দি করে মানবপাচারকারীরা। পরে তাকে সেখানে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করেছে তার পরিবার।

আরও আগেই তাকে হত্যার ঘটনা ঘটলেও বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বিষয়টি জানাজানি হয়।

সোহাগের পরিবারের সদস্যরা জানান, ইতালি পাঠানোর স্বপ্ন দেখিয়ে লিবিয়ায় নিয়ে বন্দী করে মানবপাচারকারীরা। তাদের দাবি করা ৬০ লাখ টাকা দিয়েও জীবন রক্ষা হয়নি মাদারীপুরের রাজৈরের যুবক সোহাগ মুন্সীর। আরও ২৭ লাখ টাকা দিতে দেরি হওয়ায় গুলি করে হত্যার পর গুম করা হয়েছে তার মরদেহ।

পরে গত বুধবার খবর বিভিন্ন সূত্রে তারা সোহাগকে হত্যার বিষয়টি নিশ্চিত হেন।

বৃহস্পতিবার সরেজমিনে গেলে পরিবার ও স্বজনরা জানান, বাংলাদেশে রং মিস্ত্রি কাজ করতেন মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার মজুমদারকান্দি গ্রামের আশরাফ আলী মুন্সীর ছেলে সোহাগ মুন্সী। ইতালি গিয়ে ভাগ্য পরিবর্তনের আসায় স্থানীয় মানবপাচারকারী দালাল ময়না আক্তার ও জুলহাস সরদারের খপ্পরে পড়েন তিনি। চুক্তি অনুযায়ী তাদের হাতে ২২ লাখ টাকা তুলে দিয়ে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে বাড়ি ছাড়েন সোহাগ। প্রথমে তাকে সৌদি আরব ও পরে লিবিয়ার ত্রিপলি নিয়ে বন্দী করে চালানো হয় অমানবিক নির্যাতন। সেই ভিডিও পরিবারের কাছে পাঠিয়ে কয়েক ধাপে আরও ৩৮ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয় দালাল চক্র। একপর্যায়ে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর জন্য আরও দুই লাখ টাকা নিলেও সোহাগকে ফেরত না পাঠিয়ে গত ২৩ জুলাই দাবি করা হয় আরও ২৭ লাখ টাকা। ২৪ জুলাই সকাল ৮টার মধ্যে দাবি করা টাকা দিতে না পারায় সোহাগকে গুলি করে হত্যা করে মানবপাচারকারী মাফিয়ারা। সর্বশেষ গত বুধবার তার মৃত্যুর খবর পেয়ে আহাজারিতে ভেঙে পড়েন পরিবারের সদস্যরা।

শুধু সোহাগ মুন্সীই নয়, এখনও লিবিয়ায় ওই মানবপাচারকারী মাফিয়াদের হাতে জিম্মি রয়েছে আরও ১১ যুবক। মানবপাচারকারী দালাল ও মাফিয়াদের সর্বোচ্চ শাস্তিসহ নিহত সোহাগের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন স্বজন ও এলাকাবাসী।

মাদারীপুরের সহকারী পুলিশ সুপার বিমল চন্দ্র বর্মন বলেন, এ ঘটনায় বুধবার রাতেই নিহত সোহাগের মা শাহিনুর বেগম বাদি হয়ে রাজৈর থানায় একটি এজাহার দায়ের করেছেন। ইতোমধ্যে প্রধান আসামি জুলহাস সরদারকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বাকি আসামিদের ধরতে চলছে অভিযান। তবে মূল হোতারা অধিকাংশই দেশের বাইরে থাকায় তাদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হচ্ছে না। আর যারা দেশে আছে তারা প্রতিমুহূর্তে স্থান পরিবর্তন করছে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলমান।