বক্সিং রিংয়ে ঢুস মেরে আলোচনায় প্রয়াত স্বৈরশাসকের নাতি

কমনওয়েলথ গেমসে অভিষেক ভালো হলো না উগান্ডার প্রয়াত স্বৈরশাসক ইদি আমিনের নাতি আজিজ আবদুলের। বুধবার (২৯ জুলাই) কলঙ্ক মাথায় নিয়ে গেমস ত্যাগ করেন তিনি। সুপার হেভিওয়েট বিভাগের কোয়ার্টার ফাইনালে প্রতিপক্ষকে মাথা দিয়ে ঢুস মেরে অযোগ্য ঘোষিত হন উগান্ডার এই বক্সার। এছাড়া রেফারিকে মৌখিকভাবে তীব্র আক্রমণও করেন তিনি।

এখানেই শেষ নয়, অযোগ্য ঘোষিত হওয়ার পর এক সাংবাদিকের সঙ্গে কথা বলতেও অস্বীকৃতি জানান আজিজ আবদুল। কারণ, সেই সাংবাদিক তার স্বৈরাচার শাসক দাদাকে নিয়ে নেতিবাচক প্রতিবেদন লিখেছিলেন। 

প্রেস অ্যাসোসিয়েশনের সেই সাংবাদিককে আজিজ আবদুল বলেন, ‘না, আপনাকে নয়। আপনাকে আমার একদম পছন্দ নয়।’ উগান্ডা দলের এক কর্মকর্তা তখন সেই সাংবাদিককে বিষয়টি স্পষ্ট করেন, ‘আপনি তার দাদাকে নিয়ে যেসব কথা লিখেছিলেন, সে কারণেই এমনটা করছে।’

১৯৭১ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসার পর ইদি আমিন উগান্ডায় প্রায় পাঁচ লাখ মানুষকে হত্যা করেছিলেন বলে ধারণা করা হয়। এ ছাড়া এশীয় বংশোদ্ভূত প্রায় ৮০ হাজার মানুষকে দেশত্যাগে বাধ্য করেছিলেন তিনি। ২০০৩ সালে মারা যান ইদি আমিন।

বক্সিংয়ের সুপার হেভিওয়েট বিভাগে ইংল্যান্ডের ডামার টমাসের বিরুদ্ধে এক তুমুল উত্তেজনাপূর্ণ লড়াইয়ের আজিজের। ম্যাচের প্রথম রাউন্ডে তিনটি লেফট হুক মারেন আজিজ। পরে টমাসের নিখুঁত ও দ্রুতগতির লেফট পাঞ্চের শিকার হয়ে বেশ অসন্তুষ্ট আজিজ স্ট্যান্ডিং কাউন্টের (নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা) মুখে পড়েন।

দ্বিতীয় রাউন্ডে এলোপাতাড়ি পাঞ্চ চালান আজিজ। প্রতিপক্ষকে জড়িয়ে ধরা অবস্থা থেকে বের হওয়ার সময় বারবার টমাসের মুখে আঘাত করায় দ্বিতীয়বারের মতো তাঁর পয়েন্ট কাটা হয়।

শেষ পর্যন্ত পয়েন্ট তালিকায় পিছিয়ে থেকে ম্যাচ হেরে যাওয়ার উপক্রম হলে, শেষ রাউন্ডের মাঝামাঝি সময়ে মাথা উঁচিয়ে থমাসের থুতনিতে আঘাত করে বসেন আজিজ। এটি করার সঙ্গে সঙ্গেই রেফারি তাঁকে ফাইনাল ওয়ার্নিং দেন এবং অযোগ্য ঘোষণা করেন। গ্যালারিতে তখন দর্শকেরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন।

ম্যাচ শেষে ক্ষোভ প্রকাশ করে আজিজ বলেন, ‘রেফারির এই সিদ্ধান্ত মোটেই ঠিক নয়, আমি এতে মোটেও সন্তুষ্ট নই। অবশ্যই এটি অন্যায়। আপনারা ইংল্যান্ডের আগের ম্যাচগুলো দেখবেন, তাদের বক্সাররাই সবচেয়ে বেশি ফাউল করে আর নানা ধরনের ভণ্ডামি করে। আমি একজন কৃষ্ণাঙ্গ আফ্রিকান, সবই বুঝি। জানি না এই ম্যাচ নিয়ে অফিশিয়ালরা কেন এত আতঙ্কিত।’ 

তিনি আরও বলেন, ‘আমি কেন কাউকে মাথা দিয়ে আঘাত (হেডবাট) করবো? আমি কখনোই এটা করবো না। তারা চেয়েছে টমাস জিতুক, বিজয়ী হিসেবে সে আগেই নির্ধারিত ছিল! আমি জানতাম ওকে নকআউট করতে না পারলে জিততে পারবো না, কারণ, ও নিজ দেশে খেলছে। আমার জন্য এটা পরবাসী লড়াই। শুধু এটুকু বলবো, যা হয়েছে সব ঈশ্বরের ইচ্ছায় এবং ওর পরবর্তী লড়াইয়ের জন্য শুভকামনা জানাচ্ছি।’