শ্রীলঙ্কা প্রিমিয়ার লিগে (এলপিএল) দীর্ঘ অপেক্ষার পর অবশেষে জ্বলে উঠলেন অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। শ্রীলঙ্কার পাল্লেকেলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ক্যান্ডি রয়্যালসের বিরুদ্ধে ব্যাট হাতে অপরাজিত ২২ রানের কার্যকরী ইনিংস খেলার পর বল হাতে শিকার করেছেন মূল্যবান ৩টি উইকেট। সাকিবের এই দুর্দান্ত অলরাউন্ড পারফরম্যান্সে ভর করে ক্যান্ডিকে ২১ রানে হারিয়ে মাঠ ছেড়েছে তার দল জাফনা কিংস।
চলতি এলপিএল আসরে এর আগের ৫টি ম্যাচে একাদশে থাকলেও ব্যাট করার পর্যাপ্ত সুযোগ পাননি সাকিব; মাত্র দুটি ইনিংসে ব্যাট করার সুযোগ পেয়ে একটিতে ১০ রান করে অপরাজিত থাকেন এবং অন্যটিতে প্রথম বলেই আউট হয়ে সাজঘরে ফেরেন। তবে এই ম্যাচে ৬ নম্বরে ব্যাটিংয়ে নেমে ১৬ বলে ১টি চার ও ১টি দর্শনীয় ছক্কার সাহায্যে অপরাজিত ২২ রান সংগ্রাহ করেন তিনি।
সাকিবের পাশাপাশি জাফনার একাদশে খেলা আরেক বাংলাদেশী ব্যাটার তাওহিদ হৃদয় চার নম্বরে ব্যাট করতে নেমে ১৬ বলে করেন ২১ রান। মিডল অর্ডারে এই ছোট ছোট কিন্তু কার্যকর অবদান এবং ওপেনার কামিল মিশারার সর্বোচ্চ ৪৯ রানের ওপর ভর করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ২২১ রানের পাহাড়সম স্কোর দাঁড় করায় জাফনা কিংস।
পাহাড়সম রান তাড়া করতে নামা ক্যান্ডির বিপক্ষে ইনিংসের চতুর্থ ওভারেই বোলিং আক্রমণে আসেন সাকিব আল হাসান। বোলিংয়ে এসেই নিজের প্রথম ওভারে ক্যান্ডির ওপেনার লাহিরু ইগালাগামাগেকে ফিরিয়ে প্রথম সাফল্য এনে দেন তিনি। এরপর নিজের দ্বিতীয় ওভারে ৩ নম্বরে নামা বিপজ্জনক ব্যাটার কুশল পেরেরাকে সাজঘরের পথ দেখান সাকিব।
পরবর্তীতে নিজের চার ওভারের স্পেলের শেষ বলে ক্যান্ডি অধিনায়ক ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গাকে আউট করে ক্যান্ডির জয়ের সব আশা শেষ করে দেন তিনি। আউট হওয়ার আগে হাসারাঙ্গা সাকিবের শেষ ওভারে টানা তিনটি বিশাল ছক্কা হাঁকান, তবে চতুর্থ ছক্কা মারার প্রচেষ্টায় সাকিবের বলেই ক্যাচ দিয়ে আউট হন। সব মিলিয়ে সাকিবের স্পেল দাঁড়ায় ৪ ওভারে ৪৩ রান দিয়ে ৩ উইকেট।
ক্যান্ডি রয়্যালসের বিরুদ্ধে এই দুর্দান্ত জয়ের পর ৭ ম্যাচে ৫ জয়ে মোট ১০ পয়েন্ট অর্জন করে এলপিএলের পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষস্থান শক্তভাবে দখল করে নিয়েছে জাফনা কিংস। উল্লেখ্য, এই ম্যাচ জয়ের আগেই টুর্নামেন্টের প্লে-অফ রাউন্ড নিশ্চিত করেছিল দলটি।