৩ বিসিএসের ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া শেষের পথে, আগস্টেই গেজেট প্রকাশ

বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) চূড়ান্ত সুপারিশ পাওয়ার পরও ৪৫, ৪৬ ও ৪৯তম বিসিএসের গেজেট প্রকাশে বিলম্ব হচ্ছে। দীর্ঘ সময় পার হলেও সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীরা এখনো চূড়ান্ত নিয়োগ পাননি। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়ার ধীরগতিই এ বিলম্বের প্রধান কারণ। এতে চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ ও অনিশ্চয়তা বাড়ছে। তবে আগামী আগস্টের মধ্যে সব ভেরিফিকেশন শেষ করে গেজেট প্রকাশের লক্ষ্যে কাজ করছে সরকার।

সম্প্রতি এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী আবদুল বারী। তিনি বলেন, ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা ও বিভাগ সমন্বিতভাবে কাজ করছে। আগামী আগস্টের মধ্যেই সব যাচাই শেষ হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। একই সঙ্গে চাকরিপ্রার্থীদের আশ্বস্ত করে বলেন, তাদের অপেক্ষার সময় আর দীর্ঘ হবে না।

এদিকে নিয়োগ প্রক্রিয়ার নিয়ম অনুযায়ী, পিএসসির চূড়ান্ত সুপারিশ জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পৌঁছানোর পরই ভেরিফিকেশন কার্যক্রম শুরু হয়। পরে মন্ত্রণালয় থেকে নথিপত্র পুলিশের বিশেষ শাখায় পাঠানো হয় যাচাইয়ের জন্য। তবে মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ এবং বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতির কারণে এ প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হচ্ছে। এর ফলে চূড়ান্ত সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীদের নিয়োগও বিলম্বিত হচ্ছে, যা তাদের ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

বর্তমানে ৪৫তম সাধারণ বিসিএসের ১ হাজার ৮০৭ জন এবং ৪৯তম বিশেষ বিসিএসের ৬৬৮ জন প্রার্থী চূড়ান্ত গেজেটের প্রহর গুনছেন। একই সঙ্গে ৪৬তম বিসিএসের ১ হাজার ৪৫৭ জন প্রার্থী সুপারিশপ্রাপ্তদের নিয়োগপ্রক্রিয়াও একইভাবে আটকে রয়েছে। পিএসসির চূড়ান্ত তালিকায় নাম আসার পর স্বাভাবিকভাবেই প্রার্থীদের পরিবারে আনন্দের পরিবেশ তৈরি হয়েছিল। নতুন চাকরির আশায় অনেকেই তাদের আগের বেসরকারি চাকরি, খণ্ডকালীন কাজ বা উপার্জনের প্রধান মাধ্যম টিউশনি ছেড়ে দেন।

গেজেট প্রকাশের অপেক্ষা দীর্ঘ হওয়ায় সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীদের জীবনযাত্রায় নেমে এসেছে অনিশ্চয়তা। দীর্ঘ সময় ধরে আয়ের সুযোগ না থাকায় অনেকের সঞ্চয় শেষ হয়ে গেছে এবং তারা পড়েছেন আর্থিক ও মানসিক চাপে। সামাজিকভাবে ক্যাডার হিসেবে পরিচিতি পেলেও বাস্তব জীবনে তাদের মোকাবিলা করতে হচ্ছে কঠিন অর্থনৈতিক সংকটের।