ছোট্ট এক আমলে মাফ হয় ১০০০ গুনাহ

মানুষ ভুলত্রুটির ঊর্ধ্বে নয়। তবে পরম দয়ালু আল্লাহ তাআলা বান্দাকে ক্ষমা করার জন্য অত্যন্ত সহজ ও বরকতময় পথ উন্মুক্ত রেখেছেন। দৈনন্দিন ব্যস্ততার মাঝে সামান্য সময় ব্যয় করে সংক্ষিপ্ত কিছু জিকির পাঠের মাধ্যমে একজন মুমিন বিপুল সওয়াব অর্জন এবং গুনাহ থেকে মুক্তি লাভ করতে পারেন।

মানুষ ভুলত্রুটির ঊর্ধ্বে নয়। তবে পরম দয়ালু আল্লাহ তাআলা বান্দাকে ক্ষমা করার জন্য অত্যন্ত সহজ ও বরকতময় পথ উন্মুক্ত রেখেছেন। দৈনন্দিন ব্যস্ততার মাঝে সামান্য সময় ব্যয় করে সংক্ষিপ্ত কিছু জিকির পাঠের মাধ্যমে একজন মুমিন বিপুল সওয়াব অর্জন এবং গুনাহ থেকে মুক্তি লাভ করতে পারেন।

১০০০ নেকি বা গুনাহমাফের আমল
হজরত সাদ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (স.) একদা সাহাবিদের জিজ্ঞেস করলেন, ‘তোমাদের কেউ কি প্রতিদিন এক হাজার পুণ্য হাসিল করতে অপারগ হয়ে যাবে? তখন সেখানে বসে থাকা একজন প্রশ্ন করল, কেউ কিভাবে এক হাজার পুণ্য হাসিল করবে? তিনি বললেন, সে একশবার তাসবিহ (সুবহানাল্লাহ) পাঠ করলে তার জন্যে এক হাজার পুণ্য লিখিত হবে অথবা তার (আমলনামা) হতে এক হাজার পাপ মুছে দেয়া হবে।’ (সহিহ মুসলিম: ২৬৯৮)

সাগরের ফেনা পরিমাণ গুনাহ মাফ
অন্য এক হাদিসে রাসুলুল্লাহ (স.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি দিনে ১০০ বার ‘সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি’ পাঠ করবে, তার গুনাহসমূহ মাফ করে দেওয়া হবে, যদিও তা সমুদ্রের ফেনার মতো অসংখ্য হয়।’ (সহিহ বুখারি: ৬৪০৫)

বড় গুনাহে তাওবার আবশ্যকতা
ইসলামিক চিন্তাবিদদের মতে, জিকিরের মাধ্যমে পাপ মোচনের এই সুসংবাদ মূলত ‘সগিরা’ বা ছোট গুনাহের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। ‘কবিরা’ বা বড় গুনাহ থেকে  মুক্তি পেতে হলে আন্তরিকভাবে অনুতপ্ত হয়ে খাঁটি মনে তাওবা করতে হবে। আর পাপটি যদি মানুষের অধিকার (হক্কুল ইবাদ) সংক্রান্ত হয়, তবে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তির পাওনা মেটানো বা তাঁর থেকে ক্ষমা চেয়ে নেওয়া বাধ্যতামূলক।

কেন এই আমল গুরুত্বপূর্ণ
ব্যস্ত জীবনে দীর্ঘ সময় নিয়ে ইবাদত করা সবার পক্ষে সম্ভব হয় না। কিন্তু এই সংক্ষিপ্ত জিকিরগুলো খুব সহজেই দৈনন্দিন জীবনের অংশ করা যায়। চলতে-ফিরতে, কর্মস্থলে কিংবা যাতায়াতের সময়ও। এতে একদিকে যেমন সওয়াব অর্জন হয়, অন্যদিকে আল্লাহর স্মরণে অন্তর প্রশান্ত থাকে এবং আধ্যাত্মিক সংযোগ দৃঢ় হয়।

ইখলাস বা আন্তরিকতা
ইসলামি চিন্তাবিদদের মতে, কেবল তোতাপাখির মতো মুখে উচ্চারণ না করে, মহান আল্লাহর মহিমা ও শ্রেষ্ঠত্ব অন্তরে লালন করে জিকির করলে তা দ্রুত কবুল হয় এবং হৃদয়ে প্রশান্তি এনে দেয়।