২০০৩ সালের জুলাইয়ে ডারউইনে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে একমাত্র টেস্ট ম্যাচ খেলেছিল বাংলাদেশ। ম্যাচটিতে স্বাগতিকদের। স্বাগতিকদের কাছে ১৩২ রানের ইনিংস ব্যবধানে হেরেছিল খালেদ মাহমুদ সুজনের দল। মাঝখানে অনেকটা সময় পেরিয়ে গেলেও সাদা পোশাকের ম্যাচ খেলতে অস্ট্রেলিয়া সফর করা হয়নি বাংলাদেশের।
দীর্ঘ ২৩ বছর পর আবারও অজিদের বিপক্ষে তাদের মাঠে টেস্ট সিরিজ খেলতে যাচ্ছে নাজমুল হোসেন শান্তর নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ। ২৩ বছর আগের চেয়েও এই দল অনেক বেশি শক্তিশালী, ফলে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ভালো কিছু করার প্রত্যয় নিয়ে দেশ ছাড়বেন লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।
যদিও অধিনায়ক শান্তর মতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে খেলার আগে যে ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া দরকার ছিল, বৃষ্টির কারণে সেটা পুরোপুরি নেওয়া সম্ভব হয়নি। দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে আগামী ১৩ আগস্ট ডারউইনে প্রথম ও ২২ আগস্ট কুইন্সল্যান্ডে দ্বিতীয় দুই ম্যাচের টেস্টে মাঠে নামার কথা রয়েছে দুই দলের। অস্ট্রেলিয়ার উদ্দেশ্যে দেশ ছাড়ার আগে গতকাল অস্ট্রেলিয়া সিরিজ নিয়ে আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে আসেন টেস্ট অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত।
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের প্রস্তুতি নিয়ে শান্ত বলেন, 'সত্যি বলতে, সেরকম আইডিয়া নেই। অ্যানালিস্ট আমাদের কিছু তথ্য দিয়েছেন। যতটা পেরেছি মনে হয় যে, ভালো। বৃষ্টির কারণে প্রস্তুতি প্লেয়াররা সেভাবে নিতে পারেননি। যতটা সম্ভব হয়েছে, চেষ্টা করেছেন সবাই। তবুও গ্রানাইটে, বোলিং মেশিনে প্রস্তুতি নেওয়ার চেষ্টা করেছি। প্রস্তুতির কথা বললে একটু তো ঘাটতি আছে।'
অস্ট্রেলিয়ার পেস ইউনিট বিশ্বের অন্যতম। টাইগার অধিনায়ক অস্ট্রেলিয়ার পেস ইউনিট নিয়ে বলেন, 'এরকম বোলিং ইউনিটের বিরুদ্ধে খুব একটা খেলার সুযোগ হয় না। সব সময় টিভিতেই দেখতে হয়। আমরা রোমাঞ্চিত, তাদের বিরুদ্ধে খেলার জন্য।' শান্ত মানেন অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে স্বাগতিকদের বিপক্ষে দুর্দান্ত কিছু করতে পারলেও ভবিষ্যতেও অস্ট্রেলিয়ার কাছে থেকে আমন্ত্রণ পাওয়া যাবে।' বিষয়টি নিয়ে টাইগার অধিনায়ক বলেন, 'আমরা খুবই লাকি যে, অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট খেলতে পারছি। আমরা যদি এই দুইটি ম্যাচে ভালো করতে পারি, তাহলে সামনে তারা আমাদের বেশি আমন্ত্রণ জানাবে।'
যদিও জয়ের জন্যই খেলতে চান শান্ত। বলেন, 'প্রতিটি ম্যাচই জেতার জন্য খেলি। তবে আমরা কত ভালো ক্রিকেট খেলতে পারি এবং ওদের কতটুকু কঠিন সময় দিতে পারি, এই জিনিসটা গুরুত্বপূর্ণ। যদি আমরা এমন দুইটি ম্যাচ খেলতে পারি, ভবিষ্যতে দেখা যাবে আরো বেশি বেশি টেস্ট ম্যাচ খেলার সুযোগ পাচ্ছি।'
সবশেষ কয়েক সিরিজে দুর্দান্ত ছিলেন নাহিদ রানা। এক হাতেই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতেন এই স্পিডস্টার। তবে ইনজুরির কারণে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে স্বাগতিকদের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ সিরিজ নেই। নাহিদের না থাকার বিষয়টি নিয়ে অধিনায়ক শান্ত বলেন, 'নাহিদ রানার বিষয়টা দুঃখজনক। তিনি থাকলে অবশ্যই ভালো হতো। ইনজুরির ওপর কারো হাত নেই।'
তবুও অস্ট্রেলিয়া সিরিজের জন্য স্কোয়াডে ডাক পাওয়া পেসারদের নিয়ে আশাবাদী টাইগার অধিনায়ক। বলেন, 'অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে স্কোয়াডে যে পেসাররা আছেন, সবাই ক্যাপবল। মুশফিক ছাড়া সবারই অভিজ্ঞতা আছে। আশা করি, তারা ২০ উইকেট এনে দিতে পারবেন।'
২০২১ সালে টেস্ট ম্যাচ খেলা সৌম্য সরকার ডাক পেয়েছেন অস্ট্রেলিয়া সিরিজে। এই বাঁহাতি ওপেনারকে দলে নেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করতে দিয়ে শান্ত বলেন, 'সৌম্য বাউন্স ট্র্যাকে ভালো খেলে। অতীতেও ভালো খেলেছে বিদেশে। এগুলো চিন্তা করেই সৌম্যকে নেওয়া। শেষবার এনসিএলে সে দারুণ করেছে। আশা করি অস্ট্রেলিয়াতেও ভালো করবে।'
একদিন আগে তিন ফরম্যাটে তিন অধিনায়কের নীতি থেকে বের হয়ে এসেছে বিসিবি। যদিও টেস্ট অধিনায়কের দায়িত্ব থাকছে শান্তর কাধেই। অধিনায়কত্ব নিয়ে বিসিবি সভাপতির সঙ্গে কথা হয়েছে কিনা, বিষয়টি নিয়ে টেস্ট অধিনায়ক বলেন, 'তামিম ভাইয়ের সঙ্গে কথা হয়েছে। এই বিষয়টি পরিষ্কার। লিটনকে অভিনন্দন। আমার মনে হয় যে টি-টোয়েন্টি পুরো দলটাকে যেভাবে গত এক বছরে ভালো একটা জায়গা নিয়ে এসেছে, ওয়ানডে দলকেও ভালো একটা জায়গায় নিয়ে যাবে।'