২০২৫-২৬ অর্থবছরের এডিবির অতিরিক্ত বরাদ্দের ৪৬ লাখ টাকা প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হওয়ার আগেই উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলা প্রশাসনের বিরুদ্ধে। অভিযোগের তীর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও উপজেলা প্রকৌশলীর দিকে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ইউএনও কার্যালয়ের ফটোকপি মেশিন অপারেটর উজ্জ্বল হোসেনের স্ত্রী সালমা আক্তারের মালিকানাধীন মেসার্স ফাতেমা ট্রেডার্স এবং উপজেলা পরিষদের অফিস সহায়ক তোফাজ্জল হোসেনের স্ত্রী বিথী আক্তারের মেসার্স তানহা এন্টারপ্রাইজ-এর নামে একাধিক প্রকল্প দেখিয়ে এডিবির অতিরিক্ত বরাদ্দের ৪৬ লাখ টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রকল্পগুলোর কাজ তখনও শেষ হয়নি।
এ ঘটনায় প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা শুরু হলে বিষয়টি আড়াল করতে উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ফুটবল বিতরণ, অসচ্ছল নারীদের মধ্যে সেলাই মেশিন বিতরণ এবং কয়েকটি গ্রামে নলকূপ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয় বলে স্থানীয়দের দাবি। তবে আগের অর্থবছরের প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন না করেই অর্থ উত্তোলনের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তারা।
নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, পুরো অর্থ লেনদেনের সমন্বয় করেছেন উপজেলা প্রকৌশল বিভাগের হিসাবরক্ষক আমিনুল ইসলাম, যিনি দীর্ঘ সাত বছর ধরে একই উপজেলায় কর্মরত।
অভিযোগ প্রসঙ্গে ইউএনও কার্যালয়ের কর্মচারী উজ্জ্বল হোসেন বলেন, তার স্ত্রীর প্রতিষ্ঠানের নামে কোটেশনের মাধ্যমে কয়েকটি প্রকল্প অনুমোদিত হয়েছে। তবে প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে কাজ শেষ করা সম্ভব হয়নি।
অন্যদিকে উপজেলা পরিষদের অফিস সহায়ক তোফাজ্জল হোসেন বলেন, তার স্ত্রীর প্রতিষ্ঠান তানহা এন্টারপ্রাইজ দুটি রাস্তা নির্মাণসহ কয়েকটি প্রকল্পের কাজ পেয়েছে। তবে এসব প্রকল্পের বিষয়ে তিনি বিস্তারিত জানেন না।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয়ে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি।পরে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
ঘাটাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাহমুদুল হাসান অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি পুরো বিষয়টি অস্বীকার করেন।দুর্নীতির অভিযোগের সঠিক কোন উত্তর দিতে পারেননি এবং ব্যস্ত রয়েছি বলে ফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট দপ্তরের পক্ষ থেকে কোনো তদন্ত বা আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।