অবস্থান কর্মসূচি স্থগিত

৬ আগস্টের মধ্যে সার্ভিস রুলস না হলে কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি মেট্রোরেল কর্মচারীদের

ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) নিয়মিত কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের দাবি ‘স্বয়ংসম্পূর্ণ চাকরি-বিধিমালা’ (সার্ভিস রুলস) বাস্তবায়নের লক্ষ্য আগামী ৬ আগস্ট পর্যন্ত সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে দাবি আদায় না হলে কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দিয়েছেন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।

তবে যাত্রীভোগান্তির কথা বিবেচনায় নিয়ে চলমান অবস্থান কর্মসূচি আগামী ৬ আগস্ট পর্যন্ত স্থগিতের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। আজ শুক্রবার (৩১ জুলাই) ডিএমটিসিএলের নিয়মিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পক্ষে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২০১৩ সালে ডিএমটিসিএল প্রতিষ্ঠার পর এক যুগ পার হলেও প্রায় ৯০০ কর্মী কর্মকর্তা-কর্মচারীর জন্য কোনো স্বতন্ত্র চাকরি-বিধিমালা প্রণয়ন করা হয়নি। শৃঙ্খলা বিধান ও চাকরির নিরাপত্তাসহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর সঠিক নীতিমালা না থাকায় প্রশাসনে অনিশ্চয়তা, বৈষম্য ও অস্বচ্ছতা বিরাজ করছে, যা অপারেশন ও মেইনটেন্যান্স কার্যক্রমের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

কর্মচারীরা জানান, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দাবির মুখে প্রতিষ্ঠানের ৭৩তম বোর্ড সভায় সার্ভিস রুলস অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। কোম্পানি আইনে পরিচালিত এই স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের বোর্ডের অনুমোদিত সার্ভিস রুলস বাস্তবায়নের এখতিয়ার থাকলেও, সময়ক্ষেপণের জন্য প্রস্তাবটি অর্থ ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে মতামতের জন্য পাঠানো হয়। অনুমোদনের পর প্রায় সাত মাস পার হলেও এবং একাধিকবার স্মারকলিপি প্রদান সত্ত্বেও দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, টানা উদাসীনতা ও সদুত্তর না পাওয়ায় গত ২৮ জুলাই থেকে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রেখে উত্তরা দিয়াবাড়ির মেট্রোরেল ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছিলেন কর্মচারীরা। গত ৩০ জুলাই ডিএমটিসিএলের নির্ধারিত বোর্ড সভা অনিবার্য কারণে স্থগিত হওয়ায় যাত্রীদের যাতায়াত সুবিধার কথা মাথায় রেখে তারা কর্মসূচি স্থগিত করেন।

কর্মচারীরা স্পষ্ট জানিয়ে দেন, আগামী ৬ আগস্টের মধ্যে সার্ভিস রুলস কার্যকর না করা হলে সব স্তরের কর্মচারীরা কঠোর কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হবেন। এতে কোনো ধরনের জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হলে তার সমুদয় দায়ভার ডিএমটিসিএল কর্তৃপক্ষকেই বহন করতে হবে।

প্রত্যাশিত যাত্রীসেবা সচল রাখা এবং কর্মীদের ন্যায়সঙ্গত অধিকার নিশ্চিতে পরবর্তী বোর্ড সভায় কর্তৃপক্ষ সার্ভিস রুলস কার্যকরে ইতিবাচক পদক্ষেপ নেবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন আন্দোলনরত কর্মচারীরা।