মেসির সই করা জার্সির দ্বিগুণ দামে বিক্রি হলো জিমিনের সেই শার্ট 

বিশ্বখ্যাত কে-পপ ব্যান্ড বিটিএস-এর সদস্য জিমিন-এর বিশ্বকাপ ফাইনালের মঞ্চে পরা একটি শার্ট নিলামে রেকর্ড ১ লাখ ১০ হাজার মার্কিন ডলারে (বাংলাদেশি মুদ্রায় ১ কোটি ৩৫ লাখ টাকার বেশি) বিক্রি হয়েছে। প্রত্যাশিত মূল্যের তুলনায় বহুগুণ বেশি দামে বিক্রি হওয়া এই পোশাকটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

শুক্রবার (৩১ জুলাই) দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়। 

ক্রিস্টিজ অকশন হাউসের আয়োজনে ‘ওয়ান গোল: অ্যান অকশন টু বেনিফিট দ্য ফিফা গ্লোবাল সিটিজেন এডুকেশন ফান্ড’ শীর্ষক অনলাইন নিলাম এক সপ্তাহ চলার পর বুধবার শেষ হয়। নিলাম থেকে মোট ৬ লাখ ৫২ হাজার ৬৩০ মার্কিন ডলার সংগ্রহ হয়েছে, যা আয়োজকদের প্রত্যাশাকে ছাড়িয়ে গেছে। ২৪টি দেশের ক্রেতারা এতে অংশ নেন।

হাফটাইম শোতে বিটিএস পরিবেশন করেছিল তাদের জনপ্রিয় গান ‘ডায়নামাইট’। ব্যান্ডটির সদস্যদের ব্যবহৃত বিভিন্ন পোশাক ও আনুষঙ্গিক সামগ্রী মিলিয়ে বিক্রি হয়েছে ৩ লাখ ৩০০ মার্কিন ডলার, যা নিলামের মোট আয়ের প্রায় ৪৬ শতাংশ।

এদিকে খবরটি প্রকাশের পর বিশ্বজুড়ে বিটিএস ভক্তদের মধ্যে ব্যাপক উচ্ছ্বাস দেখা গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে রসিকতা করে মন্তব্য করেছেন, শার্টটি পরিবারের বাইরের কারও হাতে না যাওয়ার জন্য হয়তো বিটিএস সদস্য জাংকুক নিজেই এটি কিনে নিয়েছেন। যদিও এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

কোরিয়া টাইমস-এর তথ্য অনুযায়ী, শুধু জিমিন নন, বিটিএসের অন্যান্য সদস্যদের ব্যবহৃত পোশাকও সংগ্রাহকদের দৃষ্টি কাড়ে। 

নিলামে ভি-এর স্কার্ফ এবং জাংকুক-এর জ্যাকেট প্রতিটি ৪৬ হাজার ২০০ ডলারে, সুগা-র প্যান্ট ৩৩ হাজার ডলারে এবং জে-হোপ-এর গ্লাভস ২৮ হাজার ৬০০ ডলারে বিক্রি হয়েছে। সব মিলিয়ে ব্যান্ডটির সদস্যদের ব্যবহৃত সামগ্রী বিক্রি থেকে ৩ লাখ ৩ হাজার ১০০ মার্কিন ডলার সংগ্রহ করা হয়েছে।

একইসঙ্গে শাকিরাকে উপহার দেওয়া লিওনেল মেসির সই করা আর্জেন্টিনার জার্সি বিক্রি হয়েছে ৬৬ হাজার ডলারে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ম্যাডোনার ব্যবহৃত ও স্বাক্ষর করা গোলরক্ষকের গ্লাভস বিক্রি হয়েছে ৪১ হাজার ৮০০ ডলারে। আর হাফটাইম শোতে জাস্টিন বিবারের পরা ‘স্কাইলর্ক’ ব্র্যান্ডের স্নিকার্স বিক্রি হয়েছে ২৬ হাজার ৪০০ ডলারে।

তবে কেবল রেকর্ড মূল্যে বিক্রি হওয়াটাই মূল বিষয় নয়, এই আয় থেকে প্রাপ্ত পুরো অর্থ ব্যয় করা হবে একটি মানবিক উদ্দেশ্যে। নিলামের সংগৃহীত অর্থ ফিফা-র ‘গ্লোবাল সিটিজেন এডুকেশন ফান্ড’-এ দান করা হবে, যা বিশ্বের সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষা এবং ফুটবলের সুযোগ-সুবিধা তৈরিতে সহায়তা করবে।