ইউরোপজুড়ে দাবানলের তাণ্ডব, গ্রিসে চলছে ব্যাপক উদ্ধার অভিযান

প্রচণ্ড বাতাসে ছড়িয়ে পড়া দাবানলে পুড়ছে ইউরোপের বিভিন্ন অঞ্চল। শনিবার (১ আগস্ট) গ্রিসের একাধিক এলাকায়, এমনকি রাজধানী এথেন্সের কাছাকাছিও বড় আকারের অগ্নিকাণ্ড ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শত শত দমকলকর্মী কাজ করছেন এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, টানা তাপপ্রবাহ ও বৃষ্টিপাতের অভাবে এ গ্রীষ্মে ইউরোপজুড়ে ভয়াবহ দাবানল দেখা দিয়েছে। ফ্রান্স ও স্পেনের অনেক গ্রাম আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং কয়েক লাখ মানুষকে বাড়িঘর ও অবকাশযাপন কেন্দ্র ছেড়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে হয়েছে।

গ্রিসের বোয়োতিয়া অঞ্চলে ৩০০-এর বেশি দমকলকর্মী, ৯২টি অগ্নিনির্বাপণ যান, ভারী যন্ত্রপাতি ও আকাশযান নিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চলছে। এথেন্স থেকে প্রায় ৮০ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে আগিওস ভাসিলিওস শহর থেকে ২০০ জনের বেশি মানুষকে সমুদ্রপথে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। একই দাবানল থেকে বাঁচতে পোর্তো জারমেনো সৈকত থেকেও আরও ১২ জনকে কোস্টগার্ড উদ্ধার করেছে।

ভারী যন্ত্রপাতি ও আকাশযান নিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চলছে

গ্রিসের আত্তিকা ও এভিয়া অঞ্চলে চরম দাবানল ঝুঁকির সতর্কতা জারি করেছে কর্তৃপক্ষ। এছাড়া আর্গোলিদা ও আর্তা অঞ্চলেও রাতভর আগুন নেভানোর কাজ চলেছে।

ফ্রান্সের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের ভার অঞ্চলে তিন দিন আগে নিয়ন্ত্রণে আসা দাবানল আবারও ছড়িয়ে পড়ে। মাত্র ছয় ঘণ্টায় এক হাজার হেক্টরের বেশি এলাকা পুড়ে যায়। সেখানে রাতারাতি প্রায় আড়াই হাজার মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। প্রবল বাতাসের কারণে আগুন নিয়ন্ত্রণ আরও কঠিন হয়ে পড়েছে।

স্পেনেও একাধিক দাবানলের বিরুদ্ধে লড়াই অব্যাহত রয়েছে। উত্তরাঞ্চলের লেওন প্রদেশে নতুন করে আগুন লাগার পাশাপাশি আরও কয়েকটি দাবানল সক্রিয় রয়েছে। তবে জামোরা ও কাস্তেয়োন অঞ্চলে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হওয়ায় সরিয়ে নেওয়া বাসিন্দাদের বাড়ি ফেরার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। কাস্তেয়োনের একটি দাবানলের পেছনে অগ্নিসংযোগের সন্দেহ করছে পুলিশ।

ইউরোপজুড়ে ভয়াবহ দাবানল দেখা দিয়েছে

এদিকে তীব্র তাপপ্রবাহের প্রভাব ইউরোপজুড়ে আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। অস্ট্রিয়ায় জুন মাসে রেকর্ড ৩৯৫ জনের তাপজনিত মৃত্যুর তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। যুক্তরাজ্যে চলতি বছরে এখন পর্যন্ত প্রায় ২ হাজার ৮৭৭ জন, ফ্রান্সে জুনের মাঝামাঝি থেকে জুলাইয়ের শুরু পর্যন্ত ৫ হাজার ৭৬৪ জন এবং জার্মানিতে এ বছর প্রায় ৯ হাজার ৮০০ জনের মৃত্যু উচ্চ তাপমাত্রার সঙ্গে সম্পর্কিত বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

এদিকে দানিউব নদীর পানি রেকর্ড পরিমাণ কমে যাওয়ায় হাঙ্গেরিতে পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং সার্বিয়ায় জলবিদ্যুৎ উৎপাদন কমে গেছে। নদীপথে পণ্য পরিবহনও ব্যাহত হচ্ছে। রোমানিয়ায় নদীর পানি কমে যাওয়ায় একটি পারমাণবিক চুল্লি বন্ধ করা হয়েছে এবং আরেকটিও শিগগির বন্ধ হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে, যা দেশটির মোট বিদ্যুৎ চাহিদার প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ উৎপাদনে প্রভাব ফেলতে পারে।

সূত্র: রয়টার্স