বগুড়া সদর উপজেলার ঠেঙ্গামারা এলাকায় করতোয়া নদীর তীরবর্তী জঙ্গলঘেরা স্থানে অভিযান চালিয়ে একটি বিদেশি রিভলবার, দেশীয় অস্ত্র, মাদক ও নগদ টাকাসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এ সময় নির্যাতনে ব্যবহারের অভিযোগ থাকা একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন বৈদ্যুতিক শকারও জব্দ করা হয়েছে।
শনিবার (১ আগস্ট) দিবাগত গভীর রাতে পরিচালিত এ অভিযানে কথিত সন্ত্রাসী চক্রের প্রধান রকি, তার সহযোগী রাকিবসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে অভিযানের সময় চক্রের আরও পাঁচ থেকে সাত সদস্য করতোয়া নদী সাঁতরে পালিয়ে যান বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ডিবি পুলিশ সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে করতোয়া নদীর তীরে একটি পেপার মিল ও টিএমএসএস কারখানার পেছনের নির্জন এলাকায় তাঁবু ও পলিথিন দিয়ে তৈরি অস্থায়ী আস্তানা গড়ে একটি সন্ত্রাসী চক্র অবস্থান করছিল। পুলিশের দাবি, চক্রটি মাদক কারবারের পাশাপাশি অপহরণ, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং নির্যাতনের মাধ্যমে অর্থ আদায়ের সঙ্গে জড়িত ছিল।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ সুপার মির্জা সায়েম মাহমুদের নির্দেশনা ও তত্ত্বাবধানে ডিবির একটি দল শনিবার রাতে সেখানে অভিযান চালায়। অভিযানে একটি বিদেশি রিভলবার, তিনটি চায়নিজ কুড়াল, একটি ধারালো চাপাতি, কয়েকটি দেশীয় অস্ত্র, বিপুল পরিমাণ মাদক ও মাদক বিক্রির নগদ টাকা উদ্ধার করা হয়।
এ ছাড়া ২৫ হাজার ভোল্ট ক্ষমতাসম্পন্ন একটি বৈদ্যুতিক শকার জব্দ করা হয়েছে। পুলিশ বলছে, অপহরণ করে আনা ব্যক্তিদের নির্যাতনে এটি ব্যবহার করা হতো।
ডিবির পরিদর্শক (ইনচার্জ) ইকবাল বাহার জানান, গ্রেপ্তার রকি ও রাকিবের বিরুদ্ধে অস্ত্র, মাদক ও ফেনসিডিল-সংক্রান্ত একাধিক মামলা রয়েছে। তারা এর আগে গ্রেপ্তার হয়ে জামিনে মুক্তি পান। পরে লোকালয় ছেড়ে নদীতীরের দুর্গম এলাকায় আস্তানা গড়ে পুনরায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে।