২০ বছর ধরে মৃত শিক্ষকের বেতন-ভাতা উত্তোলনের অভিযোগ জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে

ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলার মোহাম্মদ ভেলা ওমরিয়া ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসার এক মৃত শিক্ষকের পরিচয়, ইনডেক্স নম্বর ও ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করে প্রায় দুই দশক ধরে সরকারি বেতন-ভাতা উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মো. মহিউদ্দিনের বিরুদ্ধে।

বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর শিক্ষা প্রশাসনে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

অভিযুক্ত মো. মহিউদ্দিন তজুমদ্দিন ডিগ্রি কলেজের অফিস সহকারী এবং উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি। অভিযোগ অনুযায়ী, একই নামের সুযোগ নিয়ে তিনি মৃত জুনিয়র শিক্ষক মো. মহিউদ্দিনের ইনডেক্স নম্বর ও ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করে দীর্ঘ ২০ বছর ধরে সরকারি অর্থ উত্তোলন করেছেন।

বিষয়টি জানতে পেরে মাদরাসার সুপার মাওলানা মো. নুরুজ্জামান মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগে তিনি ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, মোঃ ভেলা ওমরিয়া দাখিল মাদ্রাসায় ১৩/০৩/১৯৯৪ তারিখে মোঃ মহিউদ্দিন জুনিয়র শিক্ষক হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত হন। যার ইনডেক্স নং ৩৬৪৭৭৬, ব্যাংক হিসাব নং ৪৬০৬, এবং পরবর্তীতে তার মৃত্যু হলে পদটি শূন্য হয়।
 
এরপর তজুমদ্দিন ডিগ্রি কলেজ অফিস সহকারী মোঃ মহিউদ্দিন পিতা আছমত আলী মহাজন, যার ইনডেক্স নং ৬০২৭৮২, ব্যাংক হিসাব নং ৪৫৭৭, গত ০৭/০৯/২০০৬ তারিখে  বিধি বহির্ভূত ভাবে সহকারী শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ প্রাপ্ত হন। তিনি বর্তমানে তজুমদ্দিন উপজেলা জামায়াতে ইসলামী সেক্রেটারি হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছেন। 

অভিযোগে আরও বলা হয়, ২০০৫ সালে শিক্ষক নিবন্ধন চালু হওয়ার পর তথ্য গোপন করে ২০০৬ সালে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বিধিবহির্ভূতভাবে পূর্বের ইনডেক্স ব্যবহার এবং নামের মিল থাকায় মৃত শিক্ষকের ব্যাংক একাউন্ট ব্যবহার করে  সরকারি অর্থ উত্তোলনের মাধ্যমে আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করছেন শিক্ষক মহিউদ্দিন। এদিকে সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগ নিলেও বেতন ভোগ করছেন (নিয়োগ বিহীন) জুনিয়র শিক্ষক পদের। এছাড়া ২০০৭ সন থেকে জুন ২০২৬ পর্যন্ত এমপিও সিটে উক্ত মহিউদ্দিনের ইনডেক্স এর বিপরীতে মৃত শিক্ষকের ব্যাংক একাউন্ট ৪৬০৬ পাওয়া যায়। যাহা সম্পূর্ণ জাল-জালিয়াতি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত সহকারী শিক্ষক মোঃ মহিউদ্দিন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, হিসাব নাম্বার (৪৬০৬) এক হলেও ওই একাউন্ট থেকে বেতন তোলা হয়নি। নিয়োগ কালে কোন রকম তথ্য গোপন করা হয়নি। তবে রুপালী ব্যাংক তজুমদ্দিন শাখায় ব্যক্তিগত হিসাব থাকলেও কোন এমপিও কপিতে তার ৬০২৭৮২  ইনডেক্স এর বিপরীতে একাউন্ট দেখাতে পারেননি। 

এদিকে ২০২৬ সালের জুন মাসের এমপিও কপিতে ইনডেক্স নং ৬০২৭৮২ এর বিপরীতে মৃত শিক্ষক  মহিউদ্দিনের হিসাব নাম্বার ৪৬০৬  পাওয়া যায়।

বিষয়টি নিয়ে মোঃ ভেলা ওমরিয়া দাখিল মাদ্রাসা সুপার মাওঃ নুরজ্জামান বলেন, বর্তমানে মাদ্রাসার শিক্ষক এমপিও সিটে ৬০২৭৮২ ইনডেক্স বিপরীতে  ৪৬০৬ নং একাউন্টে সহকারী শিক্ষক মহিউদ্দিনের নাম রয়েছে। একাউন্ট সংশোধনের জন্য কাগজ পত্র প্রস্তুত করা হইতেছে। আমি সুপার হওয়ার পর বিষয়টি অবগত হয়ে উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে লিখিত আকারে জানিয়েছি।
 
তজুমদ্দিন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ রেজাউল করিম জানান, অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে উর্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন প্রেরন করা হবে।

এদিকে, অভিযোগের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং সরকারি বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।