সিরাজগঞ্জের তাড়াশ, রায়গঞ্জ ও উল্লাপাড়া উপজেলার বিভিন্ন প্রত্যন্ত গ্রামে বসবাসকারী আদিবাসী নারীরা সংসার ও জীবিকার দায় কাঁধে নিয়ে পুরুষের সঙ্গে সমানতালে মাঠে কাজ করছেন। ঘরের কাজ, সন্তান লালন-পালনের পাশাপাশি কৃষিকাজ ও দিনমজুরিতে অংশ নিয়ে পরিবারের অর্থনৈতিক ভিত্তি ধরে রাখলেও সমান কাজের বিপরীতে সমান মজুরি পাচ্ছেন না তারা। দীর্ঘদিন ধরে মজুরি বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন এসব নারী শ্রমিক।
জেলায় ওঁরাও, মাহাতো, সাঁওতাল, মুড়ারি, রবিদাস, কনকদাস, সিং, তেলি, তুড়ি, বসাইকসহ প্রায় ১৪ থেকে ১৫টি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষের বসবাস। তাদের অধিকাংশই রায়গঞ্জ, তাড়াশ ও উল্লাপাড়া উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে বাস করেন। জীবিকার প্রয়োজনে তারা কৃষিকাজ, দিনমজুরি, গৃহস্থালি কাজসহ নানা পেশায় যুক্ত।
পরিবারের আর্থিক সংকট মোকাবিলায় আদিবাসী নারীদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সংসারের সব দায়িত্ব সামলে তারা পুরুষের সঙ্গে মাঠে নেমে কৃষিকাজেও সমান পরিশ্রম করছেন।
উল্লাপাড়া উপজেলার বাঙ্গালা ইউনিয়নের প্রতাপ গ্রামের একদল ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর নারী বর্তমানে চুক্তিভিত্তিক বোরো ধানের চারা রোপণের কাজ করছেন। তাদের দলে এক-দুজন পুরুষ শ্রমিকও রয়েছেন। তারা প্রতি বিঘা জমিতে এক হাজার ২০০ থেকে এক হাজার ৫০০ টাকা চুক্তিতে কাজ করেন। এতে একজন শ্রমিকের দৈনিক আয় হয় প্রায় ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা।
শ্রমিক সুনীতি মাহাতো, মায়া রাণী মাহাতো ও সুরভী মাহাতো বলেন, প্রতিদিন কঠোর পরিশ্রম করেই তাদের সংসার চলে। মাঠে পুরুষদের মতোই কাজ করলেও অনেক ক্ষেত্রে তারা সমান মজুরি পান না।
প্রতাপ গ্রামের কৃষক আয়নাল হক বলেন, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর নারী শ্রমিকরা কৃষিকাজে বেশ দক্ষ। তারা আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করেন এবং কাজে কোনো ফাঁকি দেন না। তবে নারী-পুরুষের মজুরি বৈষম্যের বিষয়ে তিনি বলেন, এটি দীর্ঘদিনের প্রচলিত ব্যবস্থা।
তাড়াশ উপজেলার গুড়পিপুল গ্রামের কৃষিশ্রমিক নিরেশ ওরাওঁ বলেন, “আমি, আমার স্ত্রী প্রমিলা ওরাওঁ এবং মেয়ে মিতু ওরাওঁ একসঙ্গে মাঠে কাজ করি। সারা দিনের আয় দিয়েই আমাদের সংসার চলে।”
সিরাজগঞ্জ জেলা আদিবাসী বহুমুখী উন্নয়ন সংগঠনের সভাপতি নির্মল কুমার মাহাতো বলেন, আদিবাসী নারীরা কৃষিসহ বিভিন্ন খাতে পুরুষের সমান শ্রম দিলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে তাদের মজুরি ১০০ টাকা পর্যন্ত কম দেওয়া হয়। দীর্ঘদিনের এ বৈষম্য দূর করতে তারা কাজ করছেন। তবে নিয়োগদাতাদের অনীহার কারণে পরিস্থিতির খুব বেশি পরিবর্তন হচ্ছে না। জীবিকার তাগিদে বাধ্য হয়েই নারীরা কম মজুরিতে কাজ করতে রাজি হচ্ছেন।