বুয়েন্স আয়ার্সে ইকুয়েডরকে ২-১ গোলে হারিয়েছে আর্জেন্টিনা। দুই অনূর্ধ্ব-১৭ দলের প্রস্তুতিমূলক এই প্রীতি ম্যাচটি একটু ভিন্ন ছিল। কেননা, এই ম্যাচের আর্জেন্টিনার হয়েছে অভিষেক হয়েছে হাইতিয়ান বংশোদ্ভূত স্টিফেন রামোসের।
এই ফরোয়ার্ড নিজেকে ‘কিকি’ নামেই ডাকেন। ২০১০ সালের ১২ জানুয়ারি ৭ মাত্রার ভূমিকম্প হয় হাইতিতে। দুই লাখের বেশি মানুষের প্রাণ কেড়ে নেওয়া সেই বিপর্যয়ের কেন্দ্র ছিল রাজধানী পোর্ট অব প্রিন্স থেকে মাত্র ১৫ কিলোমিটার দূরে। সেখানেই এক অনাথ আশ্রমে যারা বেঁচে যায়, তাদের মধ্যে ছিলেন ৮-৯ মাস বয়সের স্টেফান রামোস।
ভূমিকম্পের আগেই এক আর্জেন্টাইন পরিবার রামোসকে দত্তক নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছিল। বিপর্যয়ের মধ্যেও কাগজপত্র অক্ষত ছিল বলে তিনি রক্ষা পান এবং দ্রুতই পাড়ি জমান দক্ষিণ আমেরিকায়।
আর্জেন্টিনায় আসা রামোস বর্তমানে ভেলেজ সার্সফিল্ডের যুব দলে দুর্দান্ত ফর্মে রয়েছেন। তার এই পারফরম্যান্স চোখ এড়ায়নি অনূর্ধ্ব-১৭ জাতীয় দলের দায়িত্বে থাকা সাবেক আর্জেন্টাইন আন্তর্জাতিক তারকা দিয়েগো প্লাসেন্তের।
কাতারে আগামী নভেম্বর ও ডিসেম্বরের মধ্যে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ২০২৬ অনূর্ধ্ব-১৭ বিশ্বকাপের প্রস্তুতি হিসেবেই এই প্রীতি ম্যাচগুলো খেলছে আর্জেন্টিনা। বিশ্বকাপে তারা অস্ট্রেলিয়া, ডেনমার্ক ও মোজাম্বিকের সাথে ‘সি’ গ্রুপে অবস্থান করছে।
এএফএ আয়োজিত বিভিন্ন টুর্নামেন্টে কিকি রামোস নিজের চমৎকার শারীরিক গঠন, রক্ষণভাগের খেলোয়াড়দের পরাস্ত করার মতো দুর্দান্ত অ্যাথলেটিক সক্ষমতা এবং গোল করার দক্ষতা দিয়ে নজর কাড়তে শুরু করেন। এসব গুণের কারণেই তিনি আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের স্কাউটদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। আর্জেন্টিনার অন্যতম প্রতিশ্রুতিশীল তারকা হিসেবে গড়ে ওঠার সব প্রতিভা তার মধ্যে রয়েছে।
রামোস যদি ২০২৬ কাতার বিশ্বকাপের চূড়ান্ত দলে জায়গা পান, তবে ১৯৭৩ সালে প্যারাগুয়ের হেরিবের্তো কোরেয়ার পর তিনিই হবেন আর্জেন্টিনার জার্সি পরা প্রথম কোনো খাঁটি বিদেশি খেলোয়াড়। কোরেয়া পরবর্তীতে আর্জেন্টিনার নাগরিকত্ব গ্রহণ করে আলবিসেলেস্তেদের জার্সি গায়ে জড়িয়েছিলেন।