ইউএনওর স্বাক্ষর জাল করে টাকা তুলতে গিয়ে ধরা পড়লেন মডেল মসজিদের মুয়াজ্জিন

নওগাঁর বদলগাছীতে উপজেলা মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের এক মুয়াজ্জিনের বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং মডেল মসজিদের সাবেক ফিল্ড সুপারভাইজারের স্বাক্ষর জাল করে সোনালী ব্যাংক থেকে ৬০ হাজার টাকা উত্তোলনের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। ব্যাংক কর্মকর্তার সতর্কতায় চেক যাচাইয়ের সময় জালিয়াতির বিষয়টি ধরা পড়ায় টাকা উত্তোলন সম্ভব হয়নি।

গত বৃহস্পতিবার বেলা ৩টার দিকে বদলগাছী সোনালী ব্যাংক শাখায় এ ঘটনা ঘটে। রোববার (২ আগস্ট) বিষয়টি জানাজানি হলে উপজেলাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

সোনালী ব্যাংক ও উপজেলা মডেল মসজিদ সূত্রে জানা যায়, মডেল মসজিদের মুয়াজ্জিন মো. মাহফুজ ৬০ হাজার টাকার একটি চেক নিয়ে সোনালী ব্যাংকে টাকা উত্তোলনের জন্য যান। চেকটিতে ইউএনও ইসরাত জাহান ছনি ও মডেল মসজিদের সাবেক ফিল্ড সুপারভাইজার জাহাঙ্গীর আলমের স্বাক্ষর ছিল।

ব্যাংক সূত্র জানায়, কয়েক মাস আগে জাহাঙ্গীর আলম বদলগাছী থেকে বদলি হওয়ায় তার স্বাক্ষর দেখে ব্যাংক ব্যবস্থাপক নূর আলমের সন্দেহ হয়। এ সময় মাহফুজ দাবি করেন, দায়িত্ব ছাড়ার আগে জাহাঙ্গীর আলম চেকটিতে স্বাক্ষর করে গেছেন।


বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ইউএনও ইসরাত জাহান ছনির সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরে চেকটি যাচাই করে ইউএনওর স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়। সঙ্গে সঙ্গে ওই চেকের বিপরীতে টাকা উত্তোলন স্থগিত করা হয়।

ঘটনার পর আজ দুপুরে অভিযুক্ত মুয়াজ্জিন মো. মাহফুজকে উপজেলা মডেল মসজিদে দেখা যায়নি। তার বক্তব্য জানার জন্য ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে তাঁর বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।

মডেল মসজিদের বর্তমান ফিল্ড সুপারভাইজার মো. আল আমিন সরকার বলেন, ‘আমি নতুন দায়িত্ব গ্রহণ করেছি। ঘটনাটি শুনেছি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিষয়টি নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।’

বদলগাছী সোনালী ব্যাংক শাখার ব্যবস্থাপক নূর আলম বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ হওয়ায় আমি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানাই। ওই চেকে টাকা উত্তোলন বন্ধ করে দিই। তার বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, সেটি উপজেলা প্রশাসনের বিষয়।’

ইউএনও ইসরাত জাহান ছনি বলেন, ঘটনাটি সত্য। প্রাথমিকভাবে স্বাক্ষর জালের বিষয়টি ধরা পড়েছে। তদন্ত করে অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ ঘটনায় মামলা বা সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে এখনো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোনো তথ্য জানাতে পারেনি। উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তথ্যসূত্র: আজকের পত্রিকা