জুলাই গণ-অভ্যুত্থান

‘খেলা হবে’ বলেছিলেন, পরে কোথায় আশ্রয় নিলেন ওবায়দুল কাদের?

আওয়ামী লীগের শাসনামলে রাজনৈতিক অঙ্গনে সবচেয়ে আলোচিত স্লোগানগুলোর একটি ছিল ‘খেলা হবে’। সে সময় দলটির সাধারণ সম্পাদক ও তৎকালীন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের প্রায়ই এ স্লোগান ব্যবহার করতেন। একই সঙ্গে তিনি বলেছিলেন, ‘পালাব না। কোথায় পালাব! পালাব না, প্রয়োজনে ফখরুল সাহেবের বাসায় গিয়ে উঠব।’ বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে উদ্দেশ্য করে তিনি এ মন্তব্য করেছিলেন। 

তবে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ছাড়েন। এরপর থেকেই ওবায়দুল কাদের জনসমক্ষে আর দেখা দেননি। আগে নিয়মিত বক্তব্য-বিবৃতি দিলেও সরকার পতনের পর দীর্ঘ সময় তিনি সম্পূর্ণ নীরব থাকেন। তার অবস্থান নিয়ে শুরু হয় নানা জল্পনা-কল্পনা।

সে সময় বিভিন্ন মহলে দাবি করা হয়, তিনি যশোর সীমান্ত দিয়ে ভারতে চলে গেছেন। আবার কেউ বলেন, তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থান করছেন। অন্য একটি মত ছিল, তিনি দীর্ঘ সময় দেশের ভেতরেই আত্মগোপনে ছিলেন।

এমন পরিস্থিতিতে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দৈনিক মানবজমিন দাবি করে, গণঅভ্যুত্থানের পর প্রায় তিন মাস পাঁচ দিন ওবায়দুল কাদের বাংলাদেশেই আত্মগোপনে ছিলেন। পরে ৮ নভেম্বর তিনি শিলং হয়ে ভারতের কলকাতায় পৌঁছান বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। সেখানে আরও বলা হয়, ভারতে আশ্রয়ের বিষয়ে বিভিন্ন পর্যায়ে তার পক্ষে তদবিরও করা হয়েছিল।

মানবজমিনে প্রকাশিত ওই প্রতিবেদন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপন করে তৎকালীন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম প্রশ্ন তোলেন, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি থাকা সত্ত্বেও ওবায়দুল কাদেরকে কেন গ্রেপ্তার করা হয়নি এবং তিনি কীভাবে দেশ ছাড়তে সক্ষম হন। এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে ব্যাখ্যা চেয়ে নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনাল।

আদালত ১৫ দিনের মধ্যে ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দিয়ে জানতে চান, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর না হওয়ার কারণ কী এবং কীভাবে তিনি দেশের সীমান্ত অতিক্রম করেন। একই সঙ্গে আদালতের নির্দেশনা অমান্য করে কেউ পালাতে সহায়তা করে থাকলে তার বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে বলে আদালতে জানানো হয়।

অন্যদিকে, সে সময়ের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, ওবায়দুল কাদের কোথায় আত্মগোপনে ছিলেন, তা সরকারের জানা ছিল না। তিনি বলেন, ‘আমরা যদি জানতাম তিনি কোথায় আছেন, তাহলে অবশ্যই তাকে গ্রেপ্তার করা হতো।’