দীর্ঘ ৯ মাসের বিরতির পর দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর দিয়ে আবারও ভারত থেকে কাঁচা মরিচ আমদানি শুরু হয়েছে। সোমবার (২ আগস্ট) বিকেল চারটার দিকে কাঁচা মরিচ বোঝাই একটি ট্রাক বন্দরে প্রবেশের মধ্য দিয়ে এই কার্যক্রম শুরু হয়। প্রথম দিন তিনটি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের চারটি ট্রাকে মোট ২৮ টন ৪৪০ কেজি কাঁচা মরিচ দেশে এসেছে। বন্দর দিয়ে আমদানি শুরু হওয়ায় স্থানীয় বাজারে দাম কমতে শুরু করেছে এবং ক্রেতাদের মধ্যে স্বস্তি ফিরছে।
বন্দরে আমদানিকৃত এই কাঁচা মরিচ মানভেদে পাইকারি পর্যায়ে প্রতি কেজি ১৬০ থেকে ১৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এদিকে, আমদানি শুরুর প্রভাবে খুচরা বাজারেও দামের পতন দেখা গেছে। হিলি বাজারে সোমবার সকালে দেশি কাঁচা মরিচ বিক্রি হয়েছিল ২৮০ টাকা দরে, কিন্তু বিকেলে তা ২২০ টাকায় নেমে আসে। তবে দাম কমলেও বাজারে কাঁচা মরিচের ক্রেতা কিছুটা কম বলে ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন।
আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান সজিব ট্রেডার্সের প্রতিনিধি পলাশ জানান, সরকারের অনুমোদনের পর ভারতের বিহার রাজ্য থেকে এই কাঁচা মরিচ আমদানি করা হচ্ছে। বন্দরে পাইকারিতে প্রতি কেজি ১৬০ থেকে ১৮০ টাকায় বিক্রি করে তা দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হচ্ছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী দিনগুলোতে আমদানির পরিমাণ বাড়লে বাজারে কাঁচা মরিচের দাম আরও কমে আসবে।
হিলি উদ্ভিদ সংঘনিরোধের উপসহকারী কর্মকর্তা উজ্জ্বল হোসেন নিশ্চিত করেছেন, সবশেষ ২০২৫ সালের ২০ নভেম্বর এই বন্দর দিয়ে কাঁচা মরিচ আমদানি হয়েছিল। তিনি বলেন, সরকারের অনুমতির পর হিলি স্থলবন্দরের আমদানিকারকরা আমদানির আবেদন করেন। এখন পর্যন্ত এই বন্দরের ৬৯ জন আমদানিকারক প্রায় ৩০ হাজার টন কাঁচা মরিচ আমদানির অনুমতি পেয়েছেন।
হিলি কাস্টমসের সহকারী কমিশনার খন্দকার সোলাইমান জানান, আমদানিকৃত প্রতি টন কাঁচা মরিচ সর্বনিম্ন ৫০০ ডলারে শুল্কায়ন করা হচ্ছে। যেহেতু এটি একটি পচনশীল পণ্য, তাই ব্যবসায়ীরা যাতে দ্রুত বন্দর থেকে পণ্য ছাড়িয়ে নিতে পারেন, সে জন্য কাস্টমস কর্তৃপক্ষ সর্বোচ্চ সহযোগিতা প্রদান করছে।