নতুন চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস, বিতর্কে ফ্রান্সের ১৯৯৮ বিশ্বকাপ জয়

ফ্রান্সের প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী মারি-জর্জ বুফের একটি চাঞ্চল্যকর স্বীকারোক্তি ফুটবল বিশ্বকে নাড়িয়ে দিয়েছে। তিনি ফাঁস করেছেন যে, ১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপ জয়ের আগে জাতীয় দলের জন্য (ডোপ টেস্ট) আকস্মিকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। তার এই স্বীকারোক্তি ফরাসি ফুটবলে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

এদিকে এই ঘটনা বছরের পর বছর ধরে অস্বীকার করা সত্ত্বেও এই প্রাক্তন কর্মকর্তা স্বীকার করেছেন যে, ঘরের মাঠের টুর্নামেন্টের জন্য দলের প্রস্তুতিতে ‘বিঘ্নিত’ হওয়া এড়াতে সরকার এই নিয়ন্ত্রণ বন্ধ করে দিয়েছিল।

‘জিদান, দ্য ক্রিয়েশন অব আ লিজেন্ড’ নামে প্রামাণ্যচিত্রে বুফে বলেন, ১৯৯৮ বিশ্বকাপের আগে ফ্রান্স দলে কোনো আকস্মিক ডোপ পরীক্ষা না চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। অথচ ২০১৩ সালে সিনেটের একটি তদন্ত কমিশনের সামনে শপথ নিয়ে দেওয়া সাক্ষ্যে তিনি এমন কোনো নির্দেশ দেওয়ার কথা অস্বীকার করেছিলেন।

প্রামাণ্যচিত্রটি মূলত কিংবদন্তি ফুটবলার জিনেদিন জিদানের উত্থান নিয়ে নির্মিত। সম্প্রতি দিদিয়ের দেশমের স্থলাভিষিক্ত হয়ে ফ্রান্সের প্রধান কোচের দায়িত্ব নিয়েছেন ’৯৮ বিশ্বকাপজয়ী জিদান।

বুফে ব্যাখ্যা করেন, সরকার ও ফুটবল ফেডারেশনের মধ্যে তীব্র মতভেদের কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। ১৯৯৭ সালে টিগনেসে দলের ট্রেনিং ক্যাম্পে আকস্মিক টেস্টের পর সব খেলোয়াড়ের ফল নেগেটিভ আসে। ওই ঘটনায় দলের পক্ষ থেকে তীব্র প্রতিক্রিয়া আসে। তৎকালীন কোচ আইমে জ্যাকে ও ফরাসি ফুটবল ফেডারেশন এসব পরীক্ষাকে দলের প্রস্তুতিতে অপ্রয়োজনীয় বাধা হিসেবে উল্লেখ করেছিল।

টিগনেসের ওই পরীক্ষা পরিচালনা করতে ক্রীড়া মন্ত্রণালয় নিয়োজিত করেছিল ডাক্তার অ্যালাইন গার্নিয়ারকে। তিনি ওই ঘটনাগুলো বর্ণনা দিয়েছেন। একইসঙ্গে পরীক্ষা না করার নির্দেশনা দিয়েছিলেন বুফে বলে দাবি করেন তিনি।

জানা যায়, গার্নিয়ারের মতে নির্দেশনাটি ছিল পরিষ্কার, ‘বিশ্বকাপের আগে ফরাসি দলকে আর বিরক্ত করা আমার উচিত নয়। অন্য ভাষায়, কোনো আকস্মিক নিয়ন্ত্রণ নয়।’ 

ওই নির্দেশনা মৌখিক ছিল। স্বাগতিক দেশের জন্য এমন বড় মুহূর্তে কোনো কাগজে লিখালিখি নির্দেশনা দেওয়া হয়নি বলে জানান তিনি।

ডাক্তারের সাক্ষ্যের সামনে পড়ে বুফে বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, ‘ডাক্তার গার্নিয়ার যদি এটা বলেন, তাহলে হ্যাঁ, এটা সত্যি।’তিনি স্বীকার করলেন যে, যদিও সঠিক শব্দচয়নটি তার মনে নেই, তবে ভাবার্থটা একই ছিল। তিনি বললেন, ‘আমরা ওভাবে বলিনি, কিন্তু অর্থটা একই। এটা ছিল এক ধাপ পিছিয়ে যাওয়া।’

বুঁফে আরও ইঙ্গিত দেন, সিদ্ধান্তটি শুধু তার ছিল না। তিনি বলেন, নির্দেশটি সম্ভবত তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় বা সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে এসেছিল। তবে বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পর অবস্থান বদলে যায়। ১৯৯৯ সালে ফ্রান্সে ডোপবিরোধী লড়াইকে আইনি কাঠামোয় আনতে যে গুরুত্বপূর্ণ আইন প্রণয়ন করা হয়, তার অন্যতম উদ্যোক্তা ছিলেন বুঁফে নিজেই।

তিনি বলেন, ‘বিশ্বকাপের পর আমরা আবার ডোপিং–বিরোধী লড়াই শুরু করি।’

মজার ব্যাপার, ওই টুর্নামেন্টের কিছু পরই ডোপিং বিরোধী আন্দোলনের শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিত্ব হয়ে উঠেছিলেন বুফে। ১৯৯৯ সালে ফ্রান্সে ডোপিংয়ের বিরুদ্ধে লড়াই সংগঠিত করার জন্য প্রথম প্রধান আইনের পক্ষে তার সমর্থন ছিল। 

১৯৯৮ সালে স্বাগতিক হিসেবে ফ্রান্সের প্রথম বিশ্বকাপ জয়ের স্মৃতি দেশটির ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম গৌরবময় অধ্যায়। ফাইনালে ব্রাজিলকে ৩–০ গোলে হারিয়েছিল ফ্রান্স। জোড়া গোল করেন জিদান। তবে প্রায় ৩০ বছর পর সাবেক ক্রীড়ামন্ত্রীর এই স্বীকারোক্তি সেই সাফল্যের পেছনে প্রশাসনিক সিদ্ধান্তগুলো নিয়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিলো।