টাঙ্গাইলের সখীপুরে জামাল উদ্দিন (৪৯) নামে এক অসুস্থ ব্যক্তিকে গভীর রাতে গ্রামের রাস্তায় ফেলে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার স্ত্রী ও সন্তানদের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি জানাজানি হলে স্থানীয়রা মানবিক উদ্যোগে চাঁদা তুলে তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে এগিয়ে এসেছেন। উপজেলা প্রশাসনও চিকিৎসা সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সকালে উপজেলার কালমেঘা গ্রামের ঝুট ব্যবসায়ী এনাম হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, সকাল থেকে টানা বৃষ্টির কারণে অর্থ সংগ্রহে কিছুটা বিঘ্ন ঘটলেও বিকেলের মধ্যে জামাল উদ্দিনকে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রয়োজন হলে পরে উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থাও করা হবে।
সখীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আশরাফুল আলম বলেন, বিষয়টি পারিবারিক হলেও একজন অসুস্থ মানুষকে মানবিক সহায়তা দেওয়া জরুরি। এ কারণে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তাকে জামাল উদ্দিনের স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকেও চিকিৎসায় প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে বলে জানান তিনি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার রাতে জামাল উদ্দিনকে তার পৈতৃক ভিটাসংলগ্ন সড়কে রেখে যাওয়া হয়। তার ভাই সোহরাব আলী ও আবদুল জলিলের দাবি, প্রায় ২২ বছর আগে জামাল পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে স্ত্রী রিনা আক্তারকে নিয়ে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার বাঁশবাড়ি এলাকায় শ্বশুরবাড়িতে বসবাস শুরু করেন। পরে তিনি সৌদি আরবে গিয়ে প্রায় ১২ বছর কাজ করেন এবং উপার্জিত অর্থের বেশির ভাগই স্ত্রীর কাছে পাঠান।
স্বজনদের ভাষ্য, প্রায় তিন মাস আগে অসুস্থ হয়ে দেশে ফেরার পর থেকে জামাল স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারছেন না। অভিযোগ রয়েছে, তার চিকিৎসার দায়িত্ব নিতে স্ত্রী ও সন্তানরা অনীহা প্রকাশ করেন। একপর্যায়ে গভীর রাতে তাকে গ্রামের রাস্তায় রেখে চলে যান তারা।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে জামালের স্ত্রী রিনা আক্তার বলেন, প্রায় আড়াই মাস আগে তিনি জামালকে তালাক দিয়েছেন। বর্তমানে জামাল তার স্বামী নন। তাই তাকে গাড়িতে করে সখীপুরে তার গ্রামের বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
এদিকে ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমানে জামাল উদ্দিন তার ভাতিজি ইসমত আরার বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন। তিনি রাস্তা থেকে চাচাকে উদ্ধার করে নিজ বাড়িতে নিয়ে যান।
স্থানীয়দের উদ্যোগ ও প্রশাসনের সহায়তায় দ্রুত জামাল উদ্দিনের চিকিৎসা শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে।