নারী কেলেঙ্কারি ও ব্যাংক কর্মকর্তা অপহরণের অভিযোগে এনসিপি নেতাকে অব্যাহতি

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আপত্তিকর ভিডিও ছড়িয়ে পড়া এবং এক ব্যাংক কর্মকর্তাকে অপহরণ ও নির্যাতনের অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) বগুড়া জেলা সাংগঠনিক সম্পাদক শওকত ইমরান। গুরুতর এই অভিযোগ ওঠার পর তাকে দলীয় পদ থেকে সাময়িকভাবে অব্যাহতি দিয়েছে এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটি। একই সঙ্গে কেন তার বিরুদ্ধে চূড়ান্ত সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তা আগামী দুই কার্যদিবসের মধ্যে লিখিতভাবে ব্যাখ্যা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দলটির কেন্দ্রীয় দপ্তর সেল থেকে এই নোটিশ জারি করা হয়।

এনসিপির কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও সদস্য সচিব আখতার হোসেনের নির্দেশক্রমে এই নোটিশ প্রদান করা হয়েছে। নোটিশে উল্লেখ করা হয়, শওকত ইমরানের বিরুদ্ধে নৈতিক স্খলন, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গ এবং সংগঠনের আদর্শ পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত থাকার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনা করে তাকে সাময়িক অব্যাহতি দিয়ে উত্তরাঞ্চলের কেন্দ্রীয় মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমের কাছে তথ্য-প্রমাণসহ লিখিত ব্যাখ্যা জমা দিতে বলা হয়েছে।

এই প্রসঙ্গে এনসিপি বগুড়া জেলা মিডিয়া সেলের সদস্য সচিব রিগান হোসেন জানান, দলের নীতি অনুযায়ী কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে তা স্বচ্ছতার ভিত্তিতে যাচাই করা হয়। ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে কথা বলা হচ্ছে এবং তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনার কাজ চলছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। অভিযুক্ত শওকত ইমরানের মুঠোফোন বন্ধ থাকায় এ বিষয়ে তার কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

ঘটনার সূত্রপাত হয় গত সোমবার (৩ আগস্ট), যখন শওকত ইমরানের ২৭ সেকেন্ডের একটি আপত্তিকর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে এক নারীর সঙ্গে তাকে আপত্তিকর অবস্থায় দেখা গেছে বলে দাবি করা হচ্ছে। তবে ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার আগেই তার বিরুদ্ধে আরও একটি গুরুতর অভিযোগ সামনে আসে। গত শনিবার (১ আগস্ট) ইসলামী ব্যাংক নওগাঁ শাখার কর্মকর্তা আশরাফুল ইসলামকে বগুড়া শহরের ফ্লাইওভার এলাকা থেকে জোরপূর্বক মোটরসাইকেলে তুলে নিয়ে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে শওকত ইমরানের বিরুদ্ধে। এসব ঘটনায় দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়ায় কেন্দ্রীয় কমিটি তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিল।