দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিজেদের নেতাকর্মীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গণজমায়েত ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। বুধবার (৫ আগস্ট) সকাল নয়টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের উদ্দেশ্যে মিছিল ও সমাবেশের ঘোষণা থাকলেও কর্মসূচি নির্ধারিত সময়ের কিছু পরে শুরু হয়।
সমাবেশে ছাত্রশিবিরের বর্তমান ও সাবেক নেতারা উপস্থিত ছিলেন। পাইপ হাতে শহীদ মিনার ও রাজু ভাস্কর্যে ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের গণজমায়েতে অংশ নিতে দেখা যায়।
কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া নেতাকর্মীরা ছাত্রদলের সাম্প্রতিক হামলার প্রতিবাদ জানিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেন। এসময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা সরকারি মাদ্রাসা-ই-আলিয়া এবং ঢাকা কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তাদের নেতাকর্মীরা হামলার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তারা।
সমাবেশে পটুয়াখালী-২ (বাউফল) আসনের সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, ‘৫ আগস্ট যেদিন আমাদের বিজয় উৎসব পালন করার কথা, সেদিন ছাত্রদলের বিরুদ্ধে এখানে বক্তব্য দিতে দাঁড়াতে হচ্ছে। এটা বাংলাদেশের জন্য লজ্জার, বিএনপির জন্য লজ্জার এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জন্যও লজ্জার।’
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, ‘ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগ যে পথে হেঁটেছিল, ছাত্রদল ও বিএনপিও একই পথে যাত্রা শুরু করেছে। ক্যাম্পাস দখলের যে পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, ইসলামী ছাত্রশিবির ছাত্রসমাজকে সঙ্গে নিয়ে ছাত্রদলের যেকোনো ধরনের সন্ত্রাস প্রতিহত করতে প্রস্তুত।’
সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, জুলাই বিপ্লবের সবচেয়ে বেশি সুবিধাভোগী বিএনপি ক্ষমতায় আসার পরও গণহত্যার বিচার দীর্ঘসূত্রতায় ফেলে রেখেছে।
এর আগে, মঙ্গলবার রাতে এক সংবাদ সম্মেলনে কর্মসূচির ঘোষণা দেন ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম। তিনি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, হামলার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে বর্তমান রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের সমালোচনা করেন। একইসঙ্গে ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হলে এর রাজনৈতিক প্রভাব পড়তে পারে বলে দাবি করেন তিনি।
পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনা এবং সব শিক্ষার্থীর গণতান্ত্রিক অধিকার নিশ্চিত করতে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপের আহ্বান জানান।