পুলিশ দেখে দৌড়, খালে পড়ে কলেজছাত্রের মৃত্যু

নেত্রকোনায় টহলরত জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সদস্যদের দেখে দৌড়ে পালানোর সময় খালের পানিতে পড়ে সাব্বির শেখ (১৯) নামে এক কলেজ ছাত্রের মৃত্যু হয়েছে।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সন্ধ্যায় সদর উপজেলার হরিখালি খাল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। 

পুলিশের কারণে মৃত্যু হয়েছে কিনা, এই নিয়ে সাব্বিরের পরিবারের পক্ষ হতে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে। 

অন্যদিকে পুলিশ বলছে, অভিযানের সময় দৌড়ে পালাতে গিয়ে পানিতে পড়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন সাব্বির, পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। 

নিহত সাব্বির শেখ নেত্রকোনা পৌর শহরের ছোট বাজার এলাকার নাজিম শেখের ছেলে। সে আবু আব্বাছ ডিগ্রি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন। 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার বিকেলে ডিবি পুলিশের নয় সদস্যের একটি দল মাদকবিরোধী অভিযানে মোটরসাইকেলে করে যাচ্ছিল। দলের নেতৃত্বে ছিলেন ডিবির (পশ্চিম) উপপরিদর্শক (এসআই) রাজন মিয়া।

পথে নেত্রকোনা-আমতলা সড়কের হরিখালি খালের কাছে পৌঁছালে সাব্বিরসহ কয়েকজন যুবক দূর থেকে পুলিশকে দেখে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন। এ সময় তারা পাশের হরিখালি খালে লাফিয়ে পড়েন। অন্যরা সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হলেও সাব্বির পানিতে ডুবে যান। পরে ডিবি পুলিশের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে  নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়। হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। 

তবে নিহতের বাবা নাজিম শেখ পুলিশের বর্ণনা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। 

তিনি বলেন, ‘আমার ছেলে কোনোদিন পুকুর বা নদীতে গোসলই করেনি। সে সাঁতার জানত না। তাহলে সে পানিতে পড়ল কীভাবে? আমরা হাসপাতালে গিয়ে ছেলের লাশ পেয়েছি। আমি চাই ঘটনাস্থলে গিয়ে সুষ্ঠু তদন্ত করা হোক এবং প্রকৃত ঘটনা বের করা হোক।’ 

নিহতের বোন পূর্ণিমাও মৃত্যুর কারণ নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন। 

তার দাবি, ‘শরীরে পানিতে ডুবে মৃত্যুর মতো কোনো লক্ষণ দেখিনি। পরিবারের কাউকে আগে খবরও দেওয়া হয়নি। কীভাবে ঘটনাটি ঘটেছে, সেটি আমরা জানতে চাই।’ 

সাব্বিরের বন্ধু জিহাদ জানান, অন্য এক বন্ধুর মাধ্যমে তিনি জানতে পারেন যে সাব্বির পানিতে পড়ে গুরুতর আহত হয়েছেন এবং ডিবি পুলিশ তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছে। পরে তিনি বিষয়টি পরিবারের সদস্যদের জানান। 

তার ভাষ্য, সাব্বির সাঁতার জানতেন না এবং কখনো নদী বা পুকুরে নামতেন না। ঘটনার পর এলাকাজুড়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। 

পরিবারের একমাত্র দাবি, ঘটনার নিরপেক্ষ ও সুস্থতা দন্তের মাধ্যমে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটন করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আয়নীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক। 

এ বিষয়ে নেত্রকোনা সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল খায়ের বলেন, ‘পুলিশের কোনো অবহেলা ছিল না। ঘটনাটি জানার পরপরই স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় দ্রুত অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করে পুলিশই তাকে হাসপাতালে নিয়ে যায়। হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক জানান, সে মারা গেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে।’