রাজধানীর বকশীবাজারে সরকারি মাদ্রাসা-ই-আলিয়ার আল্লামা কাশগরী (রহ.) হলে ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মী ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা প্রবেশের চেষ্টা করেছিলেন। তবে বকশীবাজার মোড়ে পুলিশের ব্যারিকেডের কারণে প্রবেশ করতে পারেননি তারা।
বুধবার (৫ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে পুলিশ এই ব্যারিকেড দেয়। শিবিরের নেতাকর্মী ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা সরে গেলে দুপুর ১টার দিকে ব্যারিকেড তুলে নেয় পুলিশ।
ব্যরিকেড দেওয়ার বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের লালবাগ জোনের ডিসি তালেবুর রহমান বলেন, সার্বিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় এই ব্যবস্থা।এখানে শিক্ষার্থীদের বাইরে আরও অনেকে রয়েছে। এ কারণে তাদের ভেতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না।
ব্যারিকেড থাকাকালে মাদ্রাসাটির অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী তাওহিদুল ইসলাম বলেছিলেন, ‘আমি একজন সাধারণ শিক্ষার্থী। গতকাল দুপুরে হলে খাবার খাচ্ছিলাম। এমন সময় দুই পক্ষের মধ্যে মারামারি শুরু হয়। তখন তাড়াতাড়ি হল থেকে বের হয়ে আসি। এরপর থেকে আর হলে প্রবেশ করতে পারিনি। আগামীকাল আমার অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের হাদিস বিভাগের ফাইনাল পরীক্ষা। এখন হলে যেতে চাচ্ছি, পুলিশ বাধা দিচ্ছে। ভেতরে যেতে দিচ্ছে না।’
আলিয়া মাদ্রাসার শিবিরের সভাপতি আবদুল আলিম জানান, গতকাল হলের একটি বিষয় নিয়ে ছাত্রদলের সঙ্গে তাদের বেশ কয়েকবার পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে তারা (শিবির) পিছু হটেন। পরে যুবদল নেতা রবিউল ইসলাম নয়নের নেতৃত্বে হল দখল করা হয়। হলের বিভিন্ন রুম ভাঙচুর করা হয়। এরপর থেকে তারা আর হলে প্রবেশ করতে পারেননি।
শিবিরের নেতাকর্মীরা হল ভাঙচুর করেছেন বলে অভিযোগ করেন ছাত্রদল।
আবদুল আলিম বলেন, ‘আমরা হল থেকে বের হয়ে আসার পর তারাই তো ঢুকেছে, ভাঙচুর করেছে। আমরা আমাদের রুমগুলো কেন ভাঙচুর করব?’
এর আগে, গতকাল বিকেলে আলিয়া মাদ্রাসার সামনে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে দুই পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হন।
স্থানীয়রা জানান, গতকাল দুপুরে হলের রুম নিয়ে ছাত্রদল ও শিবিরের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। বিকেল ৫টার দিকে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের সদস্যসচিব রবিউল ইসলাম নয়নের নেতৃত্বে ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসার হলে প্রবেশ করে ছাত্রদল। এরপর তারা শিবিরের নেতাকর্মীদের দখলে থাকা হলের কক্ষগুলো ভাঙচুর করে। পরে সাধারণ শিক্ষার্থীদের বের করে দিয়ে তারা হলের ফটকগুলোতে তালা লাগিয়ে দেয়।