ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ ও আশপাশের এলাকায় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। বুধবার ভোররাতের এ হামলায় অন্তত ১৭ জন নিহত এবং ৪০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। হামলায় একাধিক গুদাম, লজিস্টিকস কেন্দ্র ও বাণিজ্যিক স্থাপনা ধ্বংস হয়েছে বলে জানিয়েছে ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, স্থানীয় সময় মঙ্গলবার গভীর রাত থেকে বুধবার ভোর পর্যন্ত কিয়েভে একের পর এক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। বিস্ফোরণের পর রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় আগুন ছড়িয়ে পড়ে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে রাশিয়া কিয়েভে নিয়মিত ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে আসছে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেন, দেশের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ঘাটতির কারণেই এত প্রাণহানি ঘটেছে। তিনি মিত্র দেশগুলোর প্রতি দ্রুত আরও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী ব্যবস্থা ও ইন্টারসেপ্টর সরবরাহের আহ্বান জানান।
জেলেনস্কি বলেন, “ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী ইন্টারসেপ্টরগুলো আজ যারা নিহত হয়েছেন, তাদের জীবন বাঁচাতে পারত।” তিনি আরও বলেন, “আমাদের অংশীদারদের জন্য এটা বোঝা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যে এসব সরবরাহে বিলম্ব, কিংবা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী ব্যবস্থা দিতে অনিচ্ছা, সরাসরি এমন ভয়াবহ প্রাণহানি ও ধ্বংসযজ্ঞের দিকে নিয়ে যায়।”
ইউক্রেনের বিমানবাহিনী জানিয়েছে, রাশিয়া ১১৫টি ড্রোন নিক্ষেপ করে, যার প্রায় ৯০ শতাংশই ভূপাতিত করা হয়েছে। তবে ছোড়া ২৪টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং চারটি জিরকন ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের কোনোটিই প্রতিহত করা সম্ভব হয়নি।
কয়েক মাস ধরেই ইউক্রেনের কাছে মার্কিন নির্মিত প্যাট্রিয়ট প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ক্ষেপণাস্ত্রের সংকট রয়েছে। বর্তমানে রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে সক্ষম ইউক্রেনের হাতে এটিই সবচেয়ে কার্যকর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা।
ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা জানান, হামলার মূল লক্ষ্য ছিল গুদাম, অবকাঠামো ও একটি রেলস্টেশন। এতে একটি ব্রুয়ারি, নির্মাণসামগ্রীর গুদাম এবং একাধিক বেসামরিক লজিস্টিকস স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
অন্যদিকে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, তারা কিয়েভ ও আশপাশের সাতটি লজিস্টিকস কেন্দ্রকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। তাদের অভিযোগ, এসব স্থাপনা দ্বৈত-ব্যবহারযোগ্য পণ্য এবং ড্রোনের যন্ত্রাংশ সংরক্ষণ ও বিতরণে ব্যবহৃত হচ্ছিল।
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরুর পর থেকে উভয় পক্ষই বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
এদিকে ইউক্রেন আবারও প্যাট্রিয়ট প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার পিএসি-৩ ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের অতিরিক্ত সরবরাহ চেয়েছে। আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট চারটি সূত্রের বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ বিষয়ে সংশয় প্রকাশ করলেও ইউক্রেনকে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনের সুযোগ দেওয়ার লক্ষ্যে আলোচনা এগিয়ে নিচ্ছে।
সূত্র: রয়টার্স