বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতির একটি বক্তব্যকে শিক্ষাঙ্গনে সহিংসতার প্রকাশ্য উসকানি বলে আখ্যায়িত করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। সংগঠনটির দাবি, এ ধরনের উসকানিমূলক মন্তব্য করে ছাত্রশিবির পুনরায় শিক্ষাঙ্গনকে অস্থিতিশীল করার পুরোনো কৌশলের পুনরাবৃত্তি করছে।
বুধবার (৫ আগস্ট) সংবাদমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছির এই অভিযোগ করেন। সম্প্রতি ছাত্রশিবিরের সভাপতির পক্ষ থেকে ‘প্রতিরোধ করলে ছাত্রদল ১০ মিনিটও ক্যাম্পাসে থাকতে পারবে না’—এমন বক্তব্যের প্রতিবাদে তিনি এই বিবৃতি দেন।
বিবৃতিতে নাছির উদ্দিন নাছির বলেন, ছাত্রশিবির সভাপতির এই বক্তব্য সরাসরি সংঘাতের উসকানি। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বিগত সরকারের পুরো সময় যারা নিষ্ক্রিয় ছিল এবং ছাত্রলীগের ছত্রছায়ায় মিশে থেকে নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রেখেছে, তাদের মুখে এখন শক্তির আস্ফালন অত্যন্ত হাস্যকর। ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদকের দাবি, শিবিরের একটি অংশ গোপনে থেকে অন্য অংশকে সংঘাত সৃষ্টির কাজে ব্যবহার করছে।
ছাত্রদল নেতার অভিযোগ, ঢাকা থেকে উসকানি দিয়ে রাজশাহী, রংপুর ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন ক্যাম্পাসে সন্ত্রাসী মহড়া ও ত্রাসের রাজত্ব সৃষ্টি করা হয়েছে। তবে বর্তমানে শিক্ষার্থীরা এসব কর্মকাণ্ড প্রতিরোধ করতে শুরু করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘১০ মিনিট নয়, ১০ বছরও নয়, আপনার মতো আরও ১০-২০ জন সভাপতির মেয়াদ পূর্ণ করেও আপনারা কিছুই করতে পারবেন না।’
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ছাত্রদল কোনো ধরনের সংঘাতে বিশ্বাসী নয়, বরং শিক্ষার্থীদের গণতান্ত্রিক অধিকার ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানে বিশ্বাস করে। তবে শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস, হুমকি বা উসকানির মাধ্যমে আধিপত্য বিস্তারের যেকোনো অপচেষ্টা সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিহত করার ঘোষণা দেন ছাত্রদল সাধারণ সম্পাদক।
উল্লেখ্য, গত কয়েকদিন ধরে দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও উত্তেজনার খবর পাওয়া যাচ্ছে। এর আগে সাবেক সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানাও ছাত্রদল-শিবিরের মধ্যকার এই সংঘাতকে দেশের ভঙ্গুর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ইঙ্গিত বলে মন্তব্য করেছিলেন। দুই সংগঠনের শীর্ষ নেতাদের পাল্টাপাল্টি এই অবস্থানে ক্যাম্পাসগুলোতে নতুন করে উত্তপ্ত পরিস্থিতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।