নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে প্রধান উপদেষ্টা করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের রূপরেখা দিয়েছে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের প্ল্যাটফর্ম বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন।
২০২৪ সালের ৬ আগস্ট ভোররাতে এক ভিডিওতে এই রূপরেখার ঘোষণা দেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক, বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। ভিডিওটি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আরেক সমন্বয়ক ও এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার ফেসবুকে প্রচার করা হয়। ভিডিওতে নাহিদের পাশে আসিফ ছাড়াও আরেক সমন্বয়ক আবু বাকের মজুমদার ছিলেন।
নাহিদ ইসলাম জানান, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রস্তাবের জন্য তারা ২৪ ঘণ্টা সময় নিয়েছিলেন। জরুরি পরিস্থিতিতে তারা এখনই একটি রূপরেখা ঘোষণা করছেন।
তিনি জানান, তারা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, সর্বজন গ্রহণযোগ্য আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে প্রধান উপদেষ্টা করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করা হবে। ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে তাদের কথা হয়েছে। তিনি ছাত্র–জনতার আহ্বানে বাংলাদেশকে রক্ষা করতে এই গুরুদায়িত্ব নিতে সম্মত হয়েছেন।
নাহিদ ইসলাম জানান, তারা সকালের মধ্যেই এই সরকার গঠনের প্রক্রিয়া দেখতে চান। রাষ্ট্রপতির কাছে আহ্বান থাকবে, দ্রুত সময়ের মধ্যে ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে প্রধান উপদেষ্টা করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করা হোক। এই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বাকি সদস্যদের নামও তারা সকালের মধ্যে ঘোষণা করবেন।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন না হওয়া পর্যন্ত মুক্তিকামী ছাত্র–জনতাকে রাজপথে থেকে তাদের অভ্যুত্থান রক্ষা করতে হবে উল্লেখ করে তিনি জানান, তারা রক্ত দিয়েছেন, শহীদ হয়েছেন। তাদের যে প্রতিশ্রুতি একটি নতুন বাংলাদেশ গঠন করার জন্য, সেটিকে তাদের অবশ্যই বাস্তবায়ন করতে হবে। অবশ্যই ছাত্র–জনতার প্রস্তাবিত সরকার বাদে কোনো ধরনের সরকার মেনে নেওয়া হবে না। অভ্যুত্থানকারী ছাত্র–জনতার যে প্রস্তাবিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার, তারা সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন, ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে প্রধান উপদেষ্টা করে এই সরকার গঠন করা হবে। সেই সরকারকেই বাস্তবায়ন করতে হবে অবিলম্বে।
জানা যায়, দেশের বর্তমান পরিস্থিতি ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের রূপরেখা নিয়ে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে আলোচনার জন্য সেদিন সন্ধ্যা ৬টার পরপরই বঙ্গভবনে যান বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ১৩ সমন্বয়ক। এরপর এমন সিদ্ধান্ত এলো।
এরপর এদিন সন্ধ্যা ৭টা ৪০ মিনিটে বঙ্গভবনে প্রবেশ করেন সেনাপ্রধান, নৌপ্রধান ও বিমান বাহিনীর প্রধান। রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ১৩ সমন্বয়ক ও তিন বাহিনীর প্রধানের আলোচনার পরই এ সরকার গঠন করা হয়।
এর আগে, ৫ আগস্ট দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করে দেশ ছাড়েন শেখ হাসিনা। তার সঙ্গে ছোট বোন শেখ রেহানাও দেশত্যাগ করেন। এরপরই মন্ত্রিসভা বিলুপ্ত হয়।