শেরপুরের শ্রীবরদীতে মোফাজ্জল হক (৭৫) নামে এক বৃদ্ধের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে থানা পুলিশ। পরিবারের অভিযোগ, চার বছর আগে মোফাজ্জলের ছেলে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। সেই হত্যা মামলা তুলে না নেওয়ায় প্রতিপক্ষের লোকজন হত্যার পর বাবার মরদেহ গাছে ঝুলিয়ে রেখেছে।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) ভোরে নিজ বাড়ির পেছনের একটি গাছে ঝুলন্ত অবস্থায় তার মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। মোফাজ্জল হক পাইলট রানীমিমুল ইউনিয়নের হালুয়াহাটি গ্রামের মৃত মনো শেখের ছেলে।
নিহতের পারিবার সূত্রে জানা গেছে, মোফাজ্জল হক বুধবার রাতে খাবার খেয়ে রাত ১০টার দিকে বাড়ি থেকে বের হন। কিন্তু রাতে আর বাড়ি ফেরেনি। স্বজনরা রাত থেকেই তার খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। ভোর ৫টার দিকে স্থানীয়রা বাড়ির পিছনে একটি গাছের সঙ্গে মোফাজ্জল হকের ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পান।
খবর পেয়ে শ্রীবরদী থানা পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালে মর্গে পাঠায়।
নিহতের পারিবারের অভিযোগ ২০২২ সালে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে মোফাজ্জল হকের ছেলে শেখ বর আলীকে প্রতিপক্ষের লোকজন কুপিয়ে হত্যা করে। মামলাটি চলমান রয়েছে।
পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, আসামিরা জামিনে ছাড়া পাওয়ার পর থেকেই মামলাটি তুলে নেওয়ার জন্য বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও প্রাননাশের হুমকি প্রদর্শন করে আসছিলো। নিহতের পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ এরই ধারাবাহিকতায় মোফাজ্জল হককে হত্যা করে প্রতিপক্ষের লোকজন মরদেহ গাছে ঝুলিয়ে রাখে।
মরদেহ উদ্ধারের ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে শ্রীবরদী থানার ওসি মোহাম্মদ নুরুল আলম বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্ত শেষে নিশ্চিত হওয়া যাবে হত্যা না আত্মহত্যা।
তিনি আরও বলেন, তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।