ছিনতাই দেখে ফেলায় শিশুকে হত্যা, ধানক্ষেতে মিললো মাটিচাপা মরদেহ

অটো ছিনতাইয়ের ঘটনা দেখে ফেলেছিল ১০ বছরের শিশু রাজু আহম্মেদ। আর সেই ঘটনা গোপন রাখতে ওই শিশুটিকে হত্যা করা হয়। এমনকি শিশুটির মরদেহ জলাবদ্ধ একটি ধানক্ষেতে পুঁতেও রাখে হত্যাকারীরা।

সর্বশেষ তিনদিন খোঁজাখুঁজির পর বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) শিশুটির অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

বগুড়ার শেরপুর উপজেলার সীমাবাড়ী ইউনিয়নের ররোয়া গ্রামের ঘটেছে এই ঘটনা। নিহত রাজু আহম্মেদ ররোয়া গ্রামের শাহ আলমের ছেলে।

এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তারা হলেন- উপজেলার সীমাবাড়ী ইউনিয়নের ররোয়া গ্রামের শাহাদত হোসেনের ছেলে মোস্তাকিম হোসেন (২৫) ও তার সহযোগী মির্জাপুর বাজার এলাকার আব্দুল করিম (২২)।

এদিকে ঘটনাটি জানাজানি হলে এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ জনতা অভিযুক্ত মোস্তাকিমের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে। 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানান, গত রোববার অভিযুক্ত মোস্তাকিম ররোয়া গ্রাম থেকে একটি অটোরিকশা ছিনতাই করে। আর এই অটো ছিনতাইয়ের ঘটনাটি শিশু রাজু দেখে ফেলে। ছিনতাইয়ের তথ্য প্রকাশ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় ঘটনার একদিন পরই শিশুটিকে অপহরণ করে নিয়ে যায় ঘাতক মোস্তাকিম ও তার লোকজন। একপর্যায়ে শিশুটিকে হত্যার পর মরদেহ গুম করতে পার্শ্ববর্তী  তাড়াশ উপজেলার তালম ইউনিয়নের গাবরগাড়ী এলাকার একটি মাঠে ধানক্ষেতে পুঁতে রাখা হয়।

এদিকে রাজু নিখোঁজ হওয়ার পর পরিবারের পক্ষ থেকে শেরপুর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। একই সময়ে এলাকায় অটো ছিনতাইয়ের ঘটনাটিও পুলিশের নজরে আসে। দুটি ঘটনা গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে তদন্তে নামে পুলিশ। তদন্তের একপর্যায়ে পুলিশ অটো ছিনতাইয়ের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে মোস্তাকিমকে এবং ছিনতাই করা অটো কেনার অভিযোগে আব্দুল করিমকে আটক করে।

পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাদের দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই শিশু রাজুর মরদেহের সন্ধান পায় পুলিশ। পরে বৃহস্পতিবার বিকেলে তাড়াশের গাবরগাড়ী এলাকার একটি জলাবদ্ধ জমিতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে রাজুর অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করেন।

এই ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সেইসঙ্গে শিশু রাজুর এমন নির্মম মৃত্যুর ঘটনায় পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসীর মোস্তাকিম এর বাড়িতে হামলা চালিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়।

শেরপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) জয়নুল আবেদীন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, অটো ছিনতাইয়ের ঘটনায় আর কারা জড়িত এবং মরদেহ গুমের ঘটনায় অন্য কেউ সম্পৃক্ত ছিল কি না এসব বিষয় খতিয়ে দেখছে পুলিশ। পাশাপাশি ঘটনার সঙ্গে জড়িত দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এছাড়া অন্য কেউ জড়িত থাকলে শনাক্ত করে তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে। উদ্ধার করা মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে বলেও জানান তিনি।