দীর্ঘপাল্লার ড্রোন ব্যবহার করে রাশিয়ার দুটি তেল শোধনাগারে হামলার দাবি করেছে ইউক্রেন। প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির ভাষ্য, বুধবার রাতের অভিযানে ইয়ারোস্লাভল অঞ্চলের একটি প্রধান তেল শোধনাগারে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো আঘাত হানা হয়েছে। এ তথ্য জানিয়েছে দ্য কিয়েভ ইন্ডিপেনডেন্ট।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্থানীয়দের শেয়ার করা ভিডিওতে ইয়ারোস্লাভলের স্লাভনেফট-ইয়ানোস তেল শোধনাগারে ব্যাপক অগ্নিকাণ্ডের দৃশ্য দেখা যায়। শোধনাগারটি ইউক্রেন সীমান্ত থেকে ৭০০ কিলোমিটারেরও বেশি দূরে অবস্থিত। স্বাধীন রুশ টেলিগ্রাম চ্যানেল আস্ত্রা ভিডিওগুলোর অবস্থান যাচাই করে আগুনের স্থানটি নিশ্চিত করেছে।
জেলেনস্কি আরও জানান, রাশিয়ার বাশকোর্তোস্তান প্রজাতন্ত্রে, যা যুদ্ধফ্রন্ট থেকে প্রায় ১ হাজার ৩০০ কিলোমিটার দূরে, আরেকটি ছোট তেল শোধনাগারেও হামলা হয়েছে।
ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেন, “আজ আমাদের দীর্ঘপাল্লার ‘নিষেধাজ্ঞা’ আবারও কার্যকর হয়েছে। এর মাধ্যমে রাশিয়ার তেল থেকে অর্জিত আয় সীমিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে, যে অর্থ তারা যুদ্ধ পরিচালনা এবং ইউক্রেনীয়দের হত্যায় ব্যবহার করছে।”
এর আগে রাতে ইয়ারোস্লাভল অঞ্চলের গভর্নর মিখাইল ইয়েভরায়েভ জানান, ইউক্রেনীয় ড্রোন ওই অঞ্চলে হামলা চালাচ্ছে। এ কারণে মস্কোগামী কয়েকটি সড়কে যান চলাচলে সাময়িক বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়।
বন্ধ করা সড়কের মধ্যে ছিল দক্ষিণ-পশ্চিম রিং রোড ও মস্কোভস্কি প্রসপেক্টের সংযোগস্থল থেকে বের হওয়ার পথ, যার কাছেই তেল শোধনাগারটি অবস্থিত। তবে গভর্নর হামলায় শোধনাগারের ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, হামলার পর শহরের কয়েকটি বাড়িতেও আগুন লেগেছে। তবে এসব স্থাপনার ক্ষয়ক্ষতির তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি কিয়েভ ইন্ডিপেনডেন্ট।
ইয়ারোস্লাভলের এই তেল শোধনাগারটি মধ্য রাশিয়ার সবচেয়ে বড় এবং দেশটির পাঁচটি বৃহত্তম তেল শোধনাগারের একটি। এখানে বছরে প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ মেট্রিক টন অপরিশোধিত তেল প্রক্রিয়াজাত করা হয়। শোধনাগারটিতে পেট্রোল, ডিজেল, জেট জ্বালানি, তরলীকৃত গ্যাস, ফুয়েল অয়েলসহ বিভিন্ন ধরনের পেট্রোলিয়াম পণ্য উৎপাদন করা হয়।
এর আগের রাতেও একই শোধনাগারে সফল হামলা চালানোর দাবি করেছিলেন জেলেনস্কি। এছাড়া ২০২৬ সালের মে মাসেই এই স্থাপনাটি অন্তত চারবার ইউক্রেনীয় হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়।
তথাকথিত ‘দীর্ঘপাল্লার নিষেধাজ্ঞা’ অভিযানের আওতায় রাশিয়ার তেল স্থাপনাগুলোতে ধারাবাহিক হামলা চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছে ইউক্রেন। তাদের দাবি, এসব হামলার ফলে রাশিয়ার একাধিক তেল শোধনাগার উৎপাদন কমাতে কিংবা সাময়িকভাবে কার্যক্রম বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছে। এতে দেশটির জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা আরও সংকটের মুখে পড়েছে বলে দাবি করেছে কিয়েভ।