সৈকতে অনিরাপদ প্যারাসেলিংয়ে পর্যটকের মৃত্যু, প্রধান অভিযুক্ত ফরিদ গ্রেপ্তার

কক্সবাজার মেরিন ড্রাইভ সড়কের দরিয়ানগরে অনিরাপদ ভাবে চালানো প্যারাসেইলিং থেকে ছিটকে পড়ে পর্যটক মৃত্যুর ঘটনায় দায়েরকৃত হত্যা মামলার প্রধান অভিযুক্ত ফরিদ অবশেষে গ্রেপ্তার হয়েছেন। মামলার পর ঢাকার মিরপুরে আত্মগোপনে থাকা অবস্থা থেকে ঢাকা র‌্যাব-৪ এর সহযোগিতায় কক্সবাজার র‌্যাব-১৫'র সদস্যরা অভিযান চালিয়ে বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) রাতে তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হন। মামলার ছয়দিনের মাথায় তাকে ধরা সম্ভব হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন র‌্যাব-১৫'র মিডিয়া কর্মকর্তা সহকারী পুলিশ সুপার আ ম ফারুক।

গ্রেপ্তারকৃত মো. ফরিদ (৪৫) কক্সবাজার পৌরসভার ১১ নং ওয়ার্ডের দক্ষিণ বাহারছড়ার আবদুল হাই ও রাজিয়া খাতুনের ছেলে। তাদের আদি নিবাস কুমিল্লায়। নব্বই দশকের শেষের দিকে ফরিদের বড়ভাই আহছান উল্লাহ কক্সবাজার এসে পর্যটন কেন্দ্রিক ব্যবসায় শ্রমিক হিসেবে যুক্ত হন। পরে ফরিদসহ পরিবারের বেশ কিছু সদস্যদের কক্সবাজার নিয়ে এসে পর্যটন কেন্দ্রীক একাধিক ব্যবসায় নিজেদের আত্মনিয়োগ করান। এর মাঝে প্যারাসেলিং একটি।

র‌্যাব-১৫'র কর্মকর্তা ফারুক জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ৬ আগস্ট রাত সাড়ে নয়টার দিকে ঢাকা মহানগরীর মিরপুর মডেল থানাধীন ১০২/১-ক, আজাদ মিনি মার্কেট, মধ্য পীরেরবাগ এলাকায় যৌথ অভিযান চালায় র‌্যাব-১৫ ও র‌্যাব-৪ এর আভিযানিক দল। এসময় ফরিদকে গ্রেপ্তার করা হয়। 

প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা যায়, গত ১ আগস্ট বেলা ২টার দিকে মেরিন ড্রাইভের সদর থানাধীন দরিয়ানগর ফরিদের প্যারাসেইলিংয়ে নিরাপত্তাজনিত অবহেলার কারণে উড্ডয়নরত অবস্থায় প্যারাসেইলিংয়ের রশি ছিঁড়ে খুলনা থেকে আগত পর্যটক অক্ষর সৌভিক রায় (৩১) সমুদ্রে পড়ে যান। তাৎক্ষণিক উদ্ধার ব্যবস্থা না থাকায় বিলম্বে তাকে উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় নিহতের বোন বাদী হয়ে কক্সবাজার সদর থানায় মামলা দায়ের করেন।

গ্রেপ্তার এড়াতে ঘটনার পর হতে আসামিরা আত্মগোপনে চলে গেলে র‌্যাব ছায়া তদন্ত ও গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করে। একপর্যায়ে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, প্রধান অভিভুক্ত ফরিদ ঢাকার মিরপুর এলাকায় আত্মগোপনে রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় র‌্যাব-১৫ ও র‌্যাব-৪ এর সমন্বিত অভিযানে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃত ফরিদ কক্সবাজার থেকে পালিয়ে ঢাকায় আত্মগোপন করার বিষয়টি স্বীকার করে।

গ্রেপ্তারকৃত অভিযুক্তের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে উদ্ধারকৃত আলামতসহ কক্সবাজার সদর মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন
আ. ম. ফারুক।