২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি, শহীদদের আত্মত্যাগ এবং আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলো সংরক্ষণ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের গণভবনে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে ‘জুলাই জাদুঘর’। সম্প্রতি সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য জাদুঘরটি খুলে দেওয়া হয়েছে।
একসময় ভবনটি ছিল ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারি বাসভবন। বর্তমানে এর বিভিন্ন কক্ষ নতুনভাবে সাজিয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের ব্যবহৃত সামগ্রী, স্মৃতিচিহ্ন, আলোকচিত্র, ঐতিহাসিক নথি ও আন্দোলনের নানা দলিল-প্রমাণ প্রদর্শন করা হচ্ছে।
জাদুঘরের বিভিন্ন গ্যালারিতে গত দেড় দশকের আলোচিত ঘটনাবলি, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মারক, গুম ও নির্যাতনের তথ্যচিত্র এবং আন্দোলনে শহীদদের স্মৃতিচিহ্ন স্থান পেয়েছে। পাশাপাশি বিডিআর বিদ্রোহে সেনা কর্মকর্তা হত্যাকাণ্ড, শাপলা চত্বরের ঘটনা এবং আন্দোলনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তও তুলে ধরা হয়েছে। দর্শনার্থীদের জন্য প্রদর্শিত হচ্ছে শহীদ আহনাফের মায়ের উদ্দেশে লেখা একটি চিঠিও।
জাদুঘরের দ্বিতীয় তলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রীর শোবার ঘরেও আনা হয়েছে পরিবর্তন। সেখানে আগে ব্যবহৃত আসবাবপত্রের বদলে রাখা হয়েছে জুলাই আন্দোলনে শহীদদের রক্তাক্ত পোশাক, ঘড়ি, জুতা, কোট, টাইসহ বিভিন্ন ব্যক্তিগত সামগ্রী। একই কক্ষে প্রবাসফেরত শহীদ রাজিবের স্মৃতিচিহ্নও সংরক্ষণ করা হয়েছে।
জাদুঘরের উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে জুলাই আন্দোলনের শহীদদের স্মরণে তৈরি করা হয়েছে প্রতীকী কবর। পাশাপাশি ভাস্কর্যের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে আন্দোলনের বিভিন্ন স্মরণীয় মুহূর্ত। এর মধ্যে রিকশাচালকের সালাম জানানোর দৃশ্য, শহীদ মুগ্ধের পানি বিতরণের মুহূর্ত এবং রাজপথে শহীদ ভাইয়ের মরদেহ কাঁধে নিয়ে দুই বোনের শোকাহত অবস্থার দৃশ্য উল্লেখযোগ্য।
ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের দক্ষিণ দিকের বারান্দায় থাকা শিশুদের দোলনাটিও আগের অবস্থায় রাখা হয়েছে। সেখানে এখন জুলাই আন্দোলনে নিহত শিশুদের প্রতিকৃতি প্রদর্শন করা হচ্ছে। এছাড়া ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যবহৃত বাথটাবে শহীদদের ছবি এবং তারা কোথায় ও কীভাবে নিহত হয়েছেন, সে-সংক্রান্ত তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে।
অনলাইনে টিকিট
জুলাই জাদুঘর পরিদর্শনে আগ্রহীদের আগে অনলাইনে নিবন্ধন করে নির্ধারিত সময়ের টিকিট সংগ্রহ করতে হবে। টিকিট কাটার সময় দর্শনার্থীরা নিজেদের সুবিধামতো খালি সময়ের স্লট নির্বাচন করতে পারবেন। কোনো দিনের সব স্লট পূর্ণ হয়ে গেলে পরবর্তী দিনের খালি স্লট বেছে নিতে হবে।
নির্ধারিত সময় অনুযায়ী দর্শনার্থীরা জাদুঘরে প্রবেশ করতে পারবেন। প্রতিদিন সকাল ১১টা থেকে বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত জাদুঘরটি দর্শনার্থীদের জন্য খোলা থাকে। প্রবেশমূল্য প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ৫০ টাকা এবং শিশুদের জন্য ২৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
যেভাবে টিকিট বুক করবেন
https://july36.gov.bd/ ওয়েবসাইটে প্রবেশ করুন
প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে নিবন্ধন সম্পন্ন করুন
সুবিধাজনক একটি টাইম-স্লট নির্বাচন করুন
অনলাইনে টিকিটের মূল্য পরিশোধ করুন
নির্ধারিত তারিখ ও সময়ে টিকিট দেখিয়ে জাদুঘরে প্রবেশ করুন