গ্রিস উপকূলে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে ২০০ জনের বেশি অবৈধ অভিবাসীকে উদ্ধার করেছে দেশটির সীমান্ত ও কোস্ট গার্ড এজেন্সি (ফ্রন্টেক্স)। উদ্ধার হওয়া এসব অভিবাসীর বেশির ভাগই বাংলাদেশ ও সুদানের নাগরিক। এ ছাড়া মিসরের নাগরিকও রয়েছেন।
গ্রিসের সংবাদমাধ্যম ‘ডিমোক্রেটিয়া’ এর বরাত দিয়ে শুক্রবার (৭ আগস্ট) মিডল ইস্ট মনিটরের এক খবরে বলা হয়, দেশটির দক্ষিণ ক্রিট দ্বীপে অবৈধ অভিবাসীদের আগমন অব্যাহত রয়েছে। লিবিয়া উপকূল থেকে যাত্রা শুরু করে গত ৪৮ ঘণ্টারও কম সময়ে অন্তত ২০২ জন অভিবাসী ক্রিট দ্বীপে পৌঁছেছে; যা দ্বীপটির কর্তৃপক্ষ এবং অভিবাসী অভ্যর্থনা কেন্দ্রগুলোর ওপর চাপ বাড়িয়ে দিয়েছে।
ডিমোক্রেটিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সকালে ৪০ জন অভিবাসীকে বহনকারী একটি নৌকা ইয়েরাপেত্রা অঞ্চলের দক্ষিণ-পূর্বে এসে পৌঁছেছে বলে শনাক্ত করে ফ্রন্টেক্স। খবর পেয়ে গ্রিক কোস্ট গার্ড ও একটি মাছ ধরার ট্রলার যৌথ অভিযান চালিয়ে তাদের উদ্ধার করে আইয়েরাপেত্রা বন্দরে নিয়ে যায়। বর্তমানে সেখানে তাদের পরিচয় যাচাই-বাছাই চলছে।
এর মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগেই আরও দুটি নৌকায় অন্তত ১১২ জন অভিবাসী ক্রিট দ্বীপে পৌঁছান। এরমধ্যে ৭২ বাংলাদেশি, সুদানের ৩১ জন ও ৯ মিসরীয় ছিলেন।
এর মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে দুটি পৃথক নৌকা থেকে ১১২ জন অভিবাসীকে উদ্ধার করে গ্রিক কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যে ৭২ বাংলাদেশি, সুদানের ৩১ জন ও ৯ মিসরীয় ছিলেন।
উদ্ধার হওয়া সবাইকে হেরাক্লিয়ন বন্দরের একটি সাময়িক আবাসনকেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয়েছে। দ্বীপে ক্রমাগত অবৈধ অভিবাসীদের আগমন বাড়তে থাকায় কেন্দ্রটি তাদের সাময়িক আশ্রয়ে ব্যবহার করা হচ্ছে।
এদিকে আলাদা এক বিবৃতিতে গ্রিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা ৫০ জন অভিবাসী পাচারের দায়ে ১৬ বছর বয়সী এক দক্ষিণ সুদানি কিশোরকে গ্রেপ্তার করেছে। আইয়েরাপেত্রার প্রায় ২৮ দশমিক ৫ সামুদ্রিক মাইল দক্ষিণ-পশ্চিমে পরিচালিত এক উদ্ধার অভিযানে সে ধরা পড়ে।
উদ্ধার হওয়া অভিবাসীরা জানান, অভিযুক্ত ওই কিশোর প্রত্যেকের কাছ থেকে দেড় থেকে দুই হাজার মার্কিন ডলারের বিনিময়ে লিবিয়ার তোবরুক শহর থেকে তাদের গ্রিসে নিয়ে আসছিল।