ছাদ থেকে ফেলে হত্যার অভিযোগ

ছাত্রদল নেতার মরদেহ নিয়ে পীরগাছায় থানা ঘেরাও

সাভারে ছাত্রদল নেতা মোনারুল হোসেন বকসী (৩০) নিহতের ঘটনায় পুলিশের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তুলে তার মরদেহ নিয়ে পীরগাছা থানা ঘেরাও করেছেন স্বজনরা।

শনিবার (৮ আগস্ট) সকাল ৮টার দিকে মোনারুলের মরদেহ পীরগাছায় পৌঁছালে স্বজন ও বিক্ষুব্ধ লোকজন সড়ক অবরোধসহ পীরগাছা থানার সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন। তারা মোনারুলের মৃত্যুর ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শাস্তি দাবি করেন।

নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, নিখোঁজ এক কিশোরীকে উদ্ধারে সাভারে পুলিশের অভিযানের সময় নিখোঁজ কিশোরীর বাবা মিন্টু মিয়া ও তাঁর শ্যালক পুলিশের পোশাক পরে অভিযানে অংশ নেন। তাদের অভিযোগ পীরগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম মালিক ও উপপরিদর্শক (এসআই) কনক রঞ্জনের সহযোগিতায় মিন্টু ও তার শ্যালক পুলিশের পোশাক পরে ওই অভিযানে যান। সেখানে মোনারুল তাঁদের চিনে ফেললে একপর্যায়ে ধস্তাধস্তির পর তাকে পাঁচতলা ভবনের ছাদ থেকে ফেলে দেওয়া হয়।

নিহতের বোন শাহিনুর বেগম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, মিন্টু পুলিশ বা প্রশাসনের কেউ নন। তাহলে তিনি ও তার শ্যালক পুলিশের পোশাক পেলেন কোথায়, তা তদন্ত করতে হবে। তার অভিযোগ, পীরগাছা থানা পুলিশের সহযোগিতায় মিন্টু ও তার শ্যালক পুলিশের পোশাক পরে সাভারে অভিযানে অংশ নিয়েছিলেন।

নিহতের স্বজনেরা আরও দাবি করেন, ঘটনার সময়কার সিসিটিভি ফুটেজ রয়েছে। ওই ফুটেজ পর্যালোচনা করলে অভিযানে কারা অংশ নিয়েছিলেন এবং কী ঘটেছিল, তা স্পষ্ট হতে পারে। রা সিসিটিভি ফুটেজসহ সংশ্লিষ্ট সব তথ্য যাচাই করে ঘটনার প্রকৃত কারণ বের করার দাবি জানান।

বিক্ষোভে বক্তব্য দেওয়া আওলাদ মন্ডল নামের এক ব্যক্তি অভিযোগ করেন, নিখোঁজ কিশোরীর বাবা মিন্টু মিয়া তাকে এবং কিশোরের পরিবারের সদস্যদের বিভিন্ন সময় হুমকি দিয়েছেন। পুলিশের সঙ্গে মিন্টুর ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল বলেও দাবি করেন তিনি।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ২৩ জুলাই পীরগাছার কৈকুড়ি ইউনিয়নের মোংলাকুটি এলাকা থেকে এক কিশোরী নিখোঁজ হয়। এ ঘটনায় তার বাবা মিন্টু মিয়া পীরগাছা থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। ওই কিশোরীকে উদ্ধারে তথ্যের ভিত্তিতে পীরগাছা থানার চারজন পুলিশ সদস্য সাভারে যান। পরে সাভার মডেল থানার পুলিশের সহযোগিতায় বিপিএটিসির স্টাফ কোয়ার্টারে অভিযান চালানো হয়।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই বাসায় নিখোঁজ কিশোরীকে পাওয়া যায়নি। মোনারুলের বাবা জাফর আলীর সঙ্গে পুলিশ সদস্যরা কথা বলার সময় ভবনের ওপর থেকে ভারী কিছু পড়ার শব্দ পাওয়া যায়। পরে নিচে গিয়ে মনারুলকে গুরুতর আহত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। তাঁকে রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। তবে স্বজনরা দাবী করছেন ঘটনাস্থলেই মোনারুলের মৃত্যু হয়।

মোনারুল হোসেন বকশী (২৯) সাভার থানা ছাত্রদলের সহসভাপতি ছিলেন। তাঁর বাবা জাফর আলী বিপিএটিসিতে নিরাপত্তারক্ষী হিসেবে কর্মরত। সেখানে স্টাফ কোয়ার্টারের একটি ফ্ল্যাটে তিনি থাকেন। তার বাড়ি গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বামনডাঙ্গা ইউপির হাতিবান্ধা গ্রামে। শনিবার বিকেল ৩টার দিকে গ্রামের বাড়ি হাতিবান্ধায় পারিবারিক কবরস্থানে তার মরদেহ দাফন করা হয়।

মোনারুলের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে সাভার থানা-পুলিশ। কমিটির প্রধান করা হয়েছে ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম, অপস ও ট্রাফিক উত্তর) জাহাঙ্গীর আলমকে।

পীরগাছা থানার ওসি সেলিম মালিক বলেন, বাদীর পুলিশের পোশাক পরার বিষয়টি সঠিক নয়। এ ঘটনা তদন্তের জন্য কমিটি গঠন করা হয়েছে।
রংপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক বলেন, নিখোঁজ কিশোরীকে উদ্ধারের জন্য সাভার থানার সহযোগিতা নেওয়া হয়েছিল। এ ঘটনায় রংপুরেও সহকারী পুলিশ সুপার (সি-সার্কেল) আসিফা আফরোজ আদরীকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তের পরেই বিস্তারিত জানা যাবে।