নানা উৎকণ্ঠা, প্রতিবাদ ও অবস্থান কর্মসূচির মধ্য দিয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) ৩৬তম বার্ষিক সিনেট সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রায় ছয় ঘণ্টার অধিবেশনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫০৩ কোটি ৪৭ লাখ ৩৭ হাজার টাকার বাজেট অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
শনিবার (৮ আগস্ট) সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট কক্ষে উপাচার্যের সভাপতিত্বে সভা শুরু হয়। দিনব্যাপী আলোচনা শেষে বিকেল ৫টার দিকে অধিবেশন শেষ হয়।
সিনেট সভাকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে উত্তেজনা ও উৎকণ্ঠা দেখা দেয়। আওয়ামীপন্থি হিসেবে পরিচিত কয়েকজন সিনেট সদস্যের উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে চাকসু, ছাত্রদল, ছাত্রশিবির ও ছাত্রশক্তির নেতাকর্মীরা প্রতিবাদ ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। তাদের দাবি ছিল, জুলাই-পরবর্তী রাজনৈতিক বাস্তবতায় আওয়ামীপন্থি হিসেবে পরিচিত ব্যক্তিদের সিনেট সভায় অংশগ্রহণের বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা।
পরিস্থিতি বিবেচনায় আওয়ামীপন্থি হিসেবে পরিচিত সিনেটররা শেষ পর্যন্ত সভায় অংশ নেওয়া থেকে বিরত থাকেন। পরে নির্ধারিত কার্যসূচি অনুযায়ী সিনেট অধিবেশন শুরু হয় এবং বড় ধরনের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই তা শেষ হয়।
৫০৩ কোটি টাকার বাজেট অনুমোদন
সিনেট সভায় ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫০৩ কোটি ৪৭ লাখ ৩৭ হাজার টাকার বাজেট অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর বড় অংশই বরাদ্দ রাখা হয়েছে শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ও পেনশন খাতে।
অনুমোদিত বাজেটে বেতন খাতে ১৭৭ কোটি ৪৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং ভাতা বাবদ ১১৫ কোটি ৭৪ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। পেনশন স্কিমের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১০০ কোটি টাকা।
এ ছাড়া প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা খাতে ৭৫ লাখ, যানবাহন খাতে ২ কোটি ৭৮ লাখ এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাতে ২ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট বাজেটের বড় অংশ বেতন, ভাতা ও পেনশন খাতে বরাদ্দ হওয়ায় শিক্ষা, গবেষণা ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে ব্যয়ের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
নতুন প্রকল্পের প্রস্তাব
২০২৬-২৭ অর্থবছরে একাডেমিক ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন, গবেষণা সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং ‘কমন গুড’ কার্যক্রমের আওতায় বেশ কিছু নতুন প্রকল্পের প্রস্তাব করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
এনডিপিতে প্রস্তাবিত কিন্তু এখনো অনুমোদন না পাওয়া এসব প্রকল্পের জন্য মোট ৮২ কোটি ৮ লাখ ৫৩ হাজার টাকা চাওয়া হয়েছে। প্রকল্পগুলো অনুমোদন ও বাস্তবায়িত হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও অবকাঠামোগত সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি গবেষণার পরিধি বাড়বে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।
দীর্ঘ বিরতির পর সিনেট অধিবেশন
দীর্ঘ বিরতির পর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট অধিবেশন অনুষ্ঠিত হওয়ায় এবারের সভা নিয়ে আগে থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে আগ্রহ ছিল। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হিসেবে পরিচিত কয়েকজন সিনেট সদস্যের উপস্থিতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়।
সকাল থেকেই সিনেট ভবন ও আশপাশের এলাকায় বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মীদের অবস্থান ও প্রতিবাদ কর্মসূচিকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সতর্ক অবস্থানে ছিল কর্তৃপক্ষ। তবে শেষ পর্যন্ত কোনো বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই সভা শেষ হয়।
অনুমোদিত ৫০৩ কোটি ৪৭ লাখ ৩৭ হাজার টাকার বাজেটের মাধ্যমে আগামী অর্থবছরে বিশ্ববিদ্যালয়ের বেতন-ভাতা ও পেনশন পরিশোধের পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবা, পরিবহন, তথ্যপ্রযুক্তি ও অন্যান্য প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালিত হবে। আর প্রস্তাবিত নতুন প্রকল্পগুলো অনুমোদন পেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামো, একাডেমিক কার্যক্রম ও গবেষণা সক্ষমতা বৃদ্ধিতে তা ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।