বেসরকারি খাতে জ্বালানি তেল আমদানির খবর ‘কাল্পনিক ও অসত্য’

বেসরকারি খাতে পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির খসড়া নীতিমালা নিয়ে গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত খবর এবং আলোচনাকে 'কাল্পনিক ও অসত্য' বলে অভিহিত করেছে সরকার।

শনিবার (৮ আগস্ট) বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এ ধরনের প্রতিবেদনগুলো জনগণের মধ্যে অনাকাঙ্ক্ষিত বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশে নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে সরকার 'বেসরকারি পর্যায়ে পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি, সংরক্ষণ, পরিবহন, বিতরণ ও বিপণন নীতিমালা, ২০২৬'-এর একটি খসড়া প্রস্তুত করছে।

মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রস্তাবিত এই নীতিমালার লক্ষ্য হলো দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করার পাশাপাশি একটি আরও 'স্বচ্ছ ও প্রতিযোগিতামূলক' জ্বালানি বাজার গড়ে তোলা।

তারা আরও জানায়, এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে জ্বালানি খাতের অংশীজনদের (স্টেকহোল্ডার) মতামত ও সুপারিশগুলো গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা হবে।

জ্বালানি তেল

বিবৃতিতে বলা হয়, 'জনস্বার্থ, জ্বালানি নিরাপত্তা, প্রতিযোগিতামূলক বাজার, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা গেলেই কেবল এই নীতিমালা বিবেচনার বিষয় হিসেবে গণ্য হবে।'

প্রস্তাবিত নীতিমালার মাধ্যমে কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি, কোম্পানি বা গোষ্ঠীকে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার যে গুঞ্জন ছড়িয়েছে, তা নাকচ করে দিয়েছে মন্ত্রণালয়।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, 'এই নীতিমালার মাধ্যমে কোনো বিশেষ ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা গোষ্ঠীকে কোনো বিশেষ সুবিধা দেওয়ার সুযোগ নেই।'

উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার জারি করা এক চিঠিতে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনকে (বিপিসি) ১০ আগস্টের মধ্যে 'বেসরকারি খাতে পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি, মজুত, পরিবহন, বিতরণ ও বিপণন নীতিমালা ২০২৬'-এর খসড়া জমা দিতে নির্দেশ দেয়।

জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব আসিফ আহমেদের সই করা মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে বলা হয়েছে, নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি ও বিপণনে বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণের একটি কাঠামো তৈরির লক্ষ্যে প্রস্তাবিত নীতিমালাটি করা হচ্ছে।