২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের কাছে হেরে টানা দ্বিতীয়বারের মতো শিরোপা জয়ের সুযোগ হাতছাড়া করেছে আর্জেন্টিনা। এতে বেশ হতাশ হয়েছেন আলবিসেলেস্তে সমর্থকরা। আর্জেন্টাইন সমর্থকরা কতটা হতাশ তারই এক মজার অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন আলবিসেলেস্তে ডিফেন্ডার ফাকুন্দো মেদিনা।
নিজের পরিচয় না জানিয়েই প্রায় এক ঘণ্টা ধরে এক আর্জেন্টাইন সমর্থকের মুখে শুনেছেন জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের নিয়ে ক্ষোভ ও অভিযোগ। মজার বিষয়, যাকে সামনে বসিয়ে ওই ব্যক্তি এতক্ষণ ধরে আর্জেন্টিনা দলকে ‘বিশ্বাসঘাতক’ বলছিলেন, তিনি যে জাতীয় দলেরই একজন খেলোয়াড় তা তখনও তার জানা ছিল না।
ঘটনাটি ঘটে মেদিনা নিজের এলাকায় ফিরে যাওয়ার পর। বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরে আর্জেন্টিনা শিরোপা হারানোর কয়েক দিন পর তিনি নিজ এলাকায় গিয়েছিলেন। সেখানে একটি গাড়ির গ্যারেজে গিয়ে ঘটে এই অদ্ভুত অভিজ্ঞতা। আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যম টিওয়াইসি স্পোর্টসের প্রতিবেদনে মেদিনার নিজের বক্তব্যের বরাত দিয়ে ঘটনাটি তুলে ধরা হয়েছে।
গ্যারেজে পৌঁছানোর পর মেদিনাকে মাতের কাপ (দক্ষিণ আমেরিকার একটি জনপ্রিয় ভেষজ পানীয়) দিয়ে অভ্যর্থনা জানান সেখানকার মালিক। সেই পানীয়ের পাত্রে ছিল আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের তিনটি তারকার চিহ্ন। সেটি দেখেই ওই ব্যক্তির মনে পড়ে যায় বিশ্বকাপের কথা। এরপর শুরু হয় জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের সমালোচনা।
মেদিনার বর্ণনা অনুযায়ী, গ্যারেজের মালিক বেশ ক্ষুব্ধ ছিলেন। তার অভিযোগ, আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়েরা নাকি ইচ্ছা করেই বিশ্বকাপের ফাইনাল স্পেনের কাছে ছেড়ে দিয়েছেন। এমনকি তিনি খেলোয়াড়দের ‘বিশ্বাসঘাতক’ বলেও আখ্যা দেন। কিন্তু ওই ব্যক্তির সামনে বসে থাকা মেদিনাই যে আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের ডিফেন্ডার, সেটি তিনি জানতেন না।
পরিস্থিতিটিকে আরও মজার করে তুলেছিলেন মেদিনা নিজেই। নিজের পরিচয় প্রকাশ না করে তিনি বরং ওই সমর্থকের কথাগুলো শুনতে থাকেন। একপর্যায়ে তাকে আরও বিস্তারিত বলতে উৎসাহ দেন। মেদিনা জানতে চান, কেন তার মনে হচ্ছে আর্জেন্টিনা ইচ্ছা করেই ম্যাচটি ছেড়ে দিয়েছে।
এরপর গ্যারেজের মালিক তার অভিযোগের ব্যাখ্যাও দিতে থাকেন। মেদিনার ভাষ্য অনুযায়ী, ওই ব্যক্তি বলতে থাকেন, ‘আমরা আসলে ম্যাচটা ছেড়ে দিয়েছি। আমরা ম্যাচটা ছুড়ে দিয়েছি।’
মেদিনা তখনও তাকে থামাননি। বরং চুপচাপ বসে পুরো কথোপকথন উপভোগ করছিলেন। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে তিনি ওই ব্যক্তির ক্ষোভ, হতাশা ও অভিযোগ শুনেছেন। নিজের পরিচয় প্রকাশ করলে যে পরিস্থিতি মুহূর্তেই বদলে যাবে, সেটি তিনি বুঝতে পারছিলেন। তাই পুরো বিষয়টি শেষ পর্যন্ত গোপন রাখার সিদ্ধান্ত নেন।
তবে শেষ পর্যন্ত মেদিনার পরিচয় আর গোপন থাকেনি। গ্যারেজের পাশের একটি বেকারি থেকে বেরিয়ে আসা এক প্রতিবেশী মেদিনাকে চিনে ফেলেন। এরপর তিনি গ্যারেজ মালিকের সঙ্গী এক নারীকে বিষয়টি জানান। তখনই ওই নারী বুঝতে পারেন, এতক্ষণ যার সামনে বসে জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের সমালোচনা করা হচ্ছিল, সেই ব্যক্তি আসলে আর্জেন্টিনা দলেরই একজন ফুটবলার।
মেদিনার ভাষায়, বিষয়টি জানার পর ওই নারী প্রায় বাকরুদ্ধ হয়ে যান। পরিস্থিতি বুঝতে পেরে তিনি কাঁদতেও শুরু করেন। দূর থেকে মেদিনা তাকে কাঁদতে দেখছিলেন। তার মনে হচ্ছিল, ওই নারী হয়তো ভাবছিলেন জাতীয় দলের একজন খেলোয়াড় এখানে কীভাবে এতক্ষণ বসে তাদের কথা শুনলেন!
পরিস্থিতি অস্বস্তিকর হয়ে ওঠায় শেষ পর্যন্ত মেদিনাই তার কাছে এগিয়ে যান। তবে সেখানে কোনো রাগ বা বিরক্তি দেখাননি তিনি। বরং তাকে শান্ত করার চেষ্টা করেন।
মেদিনা বলেন, তিনি ওই নারীকে বোঝানোর চেষ্টা করেছিলেন যে আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়েরা কোনোভাবেই ম্যাচ ছেড়ে দেননি। তারা বরং জেতার জন্যই মাঠে নেমেছিলেন। এরপর দুজন একে অপরকে জড়িয়ে ধরেন।