বাড়ি বিক্রি না করায় প্রবীণ দম্পতিকে অবরুদ্ধ, মই দিয়ে যাতায়াত

সাভারে বসতভিটা বিক্রি করতে রাজি না হওয়ায় এক প্রবীণ দম্পতির বাড়ির প্রবেশমুখে উঁচু প্রাচীর তুলে তাদের অবরুদ্ধ করে রাখার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধে। ফলে দৈনন্দিন প্রয়োজনে মই দিয়ে প্রতিবেশীর ছাদে উঠে সেখান থেকে সিঁড়ি বেয়ে চলাচল করতে হচ্ছে ওই দম্পতিকে।

ঘটনাটি ঘটেছে সাভারের তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়নের রাজফুলবাড়িয়ার নগরচর এলাকায়। ভুক্তভোগী দম্পতি হলেন ঝালকাঠি সদরের মানপয়সা গ্রামের সাবেক বেসরকারি চাকরিজীবী আনিসুর রহমান ও তার স্ত্রী রাশিদা বেগম। ১৯৯৫ সালে সাভারে সোয়া চার শতাংশ জমি কিনে সেখানে বাড়ি নির্মাণ করেন তারা।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, স্থানীয় প্রভাবশালীরা নিজেদের জমির পরিসর বাড়ানোর জন্য প্রথমে তাদের বাড়িটি কিনে নেওয়ার চেষ্টা করেন। এতে রাজি না হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে একের পর এক মিথ্যা মামলা করা হয়। এতেও কাজ না হওয়ায় বাড়ির প্রধান প্রবেশপথের সামনে কারাগারের মতো উঁচু প্রাচীর তুলে যাতায়াত বন্ধ করে দেওয়া হয়।

আনিসুর রহমান বলেন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সংসদ সদস্যের কাছে বিষয়টি জানিয়ে প্রতিকার চেয়েও কোনো সমাধান পাননি তারা।

দুর্ভোগের কথা বলতে গিয়ে রাশিদা বেগম বলেন, ‘এই বাড়ি বিক্রি করলে আমরা থাকব কোথায়? আমার স্বামী বয়স্ক মানুষ, আমারও বয়স হয়েছে। ঝুঁকি নিয়ে আমাদের মই বেয়ে অন্যের ছাদে উঠতে হয়, এরপর সিঁড়ি দিয়ে নামতে হয়। প্রতিবেশীরা এই সুযোগ না দিলে বন্দি হয়েই থাকতে হতো।’

পরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ দিলে বিষয়টি তদন্ত করা হয়। ঢাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের রাজস্ব বিভাগের ডেপুটি কালেক্টর শরীফ মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন সরেজমিন তদন্ত করেন।

তিনি জানান, আনিসুর রহমানের বাড়ির সামনে প্রাচীর নির্মাণ করা ব্যক্তিরাও সরকারি খাসজমিতে অবৈধভাবে স্থাপনা নির্মাণ করে বসবাস করছেন। তদন্তের পর মো. ইব্রাহিম, আসলাম, ইছমত আরা ও রমজান আলীকে সাত দিনের মধ্যে অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে নেওয়ার নোটিশ দেওয়া হয়।

রোববার ওই নোটিশের সময়সীমা শেষ হলেও তারা স্থাপনা সরিয়ে নেয়নি বলে জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে।

ঢাকার জেলা প্রশাসক মিজ ফরিদা খানম বলেন, বিষয়টি জানার পর ব্যবস্থা নিতে মাঠ প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অবৈধ দখলদাররা নিজেদের স্থাপনা সরিয়ে না নিলে প্রশাসনের উদ্যোগে সেখানে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে।