চিত্রনায়ক চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন ওরফে সালমান শাহ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার অভিনেতা আশরাফুল হক ওরফে ডনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।
রোববার (৯ আগস্ট) বিকেলে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুয়েল রানার আদালত তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের প্রধান পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ওমর ফারুক ফারুকী গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিন দশক আগে সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনায় করা হত্যা মামলায় রোববার (৯ আগস্ট) দুপুরে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ডনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) পরিদর্শক আরিফুর রহমান।
তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনে বলা হয়, ডনসহ এজাহারভুক্ত অন্য আসামি ও অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিরা পরস্পর যোগসাজশে সালমান শাহকে হত্যা করেছেন বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলমান। ডন দীর্ঘদিন ধরে পলাতক ছিলেন।
আবেদনে আরও বলা হয়, ডনকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদের প্রক্রিয়া চলছে। তাকে জামিনে মুক্তি দেওয়া হলে তদন্তে বিঘ্ন ঘটতে পারে এবং তিনি আবারও পালিয়ে যেতে পারেন। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাকে জেলহাজতে রাখা প্রয়োজন।
বিকেল ৫টা ৫ মিনিটে ডনকে আদালতের কাঠগড়ায় তোলা হয়। এ সময় তাকে কিছুটা রাগান্বিত দেখা যায়। পাঁচ মিনিট পর বিচারক এজলাসে আসেন। তিনি আসামিপক্ষের কোনো আইনজীবী আছেন কি না জানতে চান। তবে শুনানিতে ডনের পক্ষে কোনো আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন না।
শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ওমর ফারুক ফারুকী বলেন, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ও চাঞ্চল্যকর মামলা। ডন এ মামলার চার নম্বর আসামি। তিনি দাবি করেন, রোববার ডন দেশ থেকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। পরে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ তাকে আটক করে।
পিপি বলেন, ঘটনার দিন সালমান শাহর পরিবারের সদস্যরা তার সঙ্গে দেখা করতে ইস্কাটনের বাসায় যান। কিন্তু তার স্ত্রী সামিরা হক তাদের ভেতরে ঢুকতে দেননি। পরে রাতে প্রোডাকশন ম্যানেজার সালমান শাহর পরিবারের সদস্যদের জানান, তার সঙ্গে কিছু একটা করা হয়েছে এবং তাদের সেখানে যেতে বলেন।
পরে পরিবারের সদস্যরা গিয়ে সালমান শাহর মরদেহ সিলিংয়ের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। এরপর তারা মামলা করেন। এ মামলায় ডনকে চার নম্বর আসামি করা হয়েছে বলে জানান পিপি।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আরও বলেন, সালমান শাহর ছোট ভাইকে অপহরণের চেষ্টার অভিযোগেও একটি মামলা হয়েছিল। পরে ক্যান্টনমেন্ট থানায় করা ওই মামলায় রেজভি আহমেদ ওরফে ফরহাদ স্বীকারোক্তি দেন। তার স্বীকারোক্তিতে সামিরার সঙ্গে ডনের কথিত সম্পর্কের বিষয়টি উঠে আসে।
রাষ্ট্রপক্ষের দাবি, ডন, ফারুক ও রেজভি ১২ লাখ টাকার চুক্তিতে সালমান শাহকে হত্যা করেন। প্রথমে তাকে অচেতন করা হয় এবং পরে আত্মহত্যা হিসেবে দেখানোর জন্য মরদেহ ঝুলিয়ে রাখা হয়।
পিপি আরও বলেন, ডনকে ছেড়ে দেওয়া হলে তিনি পালিয়ে যেতে পারেন। পরে আদালত শুনানি শেষে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
জানা গেছে, সালমান শাহ হত্যা মামলার কারণে ডনের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা ছিল। ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ বিষয়টি জানালে সিআইডি তাকে হেফাজতে নেয়।
১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর মারা যান সালমান শাহ। তার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নানা আলোচনা ও জল্পনা রয়েছে। মৃত্যুর ২৯ বছর পর গত বছর আদালতের নির্দেশে এ ঘটনায় হত্যা মামলা করা হয়।
সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরীর পক্ষে তার ভাই আলমগীর কুমকুম বাদী হয়ে গত বছরের অক্টোবরে রাজধানীর রমনা থানায় মামলাটি করেন।
মামলায় সালমান শাহর সাবেক স্ত্রী সামিরা হক, অভিনেতা ডনসহ ১১ জনকে আসামি করা হয়েছে। অন্য আসামিরা হলেন সামিরার মা লতিফা হক, ব্যবসায়ী আজিজ মোহাম্মদ ভাই, ডেভিড, জাভেদ, ফারুক, রুবী, আ. ছাত্তার, সাজু এবং রেজভি আহমেদ ওরফে ফরহাদ।
মামলাটি তদন্ত করছে সিআইডি। তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ৩০ আগস্ট তারিখ নির্ধারণ করেছেন আদালত।