সন্তানের শারীরিক অসুস্থতা ও জন্মদিনের কারণে আদালতে হাজির হতে পারেননি চিত্রনায়িকা পরীমনি। ফলে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে দায়ের করা মামলায় তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন সংক্রান্ত শুনানি পিছিয়ে গেছে। আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর শুনানির পরবর্তী দিন ধার্য করেছেন আদালত।
সোমবার (১০ আগস্ট) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-১০ এর বিচারক রবিউল আলমের আদালতে মামলাটির অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানি হওয়ার কথা ছিল। পরীমনি উপস্থিত না থাকায় তার পক্ষে সময়ের আবেদন করেন আইনজীবী নীলাঞ্জনা রিফাত (সুরভী)।
আবেদনে উল্লেখ করা হয়, পরীমনির সন্তানকে সম্প্রতি টিকা দেওয়ার পর থেকে সে জ্বরে ভুগছে। এছাড়া সোমবার সন্তানের জন্মদিন হওয়ার কারণেও তিনি আদালতে উপস্থিত হতে পারেননি। শুনানি শেষে আদালত আইনজীবীর আবেদন মঞ্জুর করে নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন।
মামলার বিবরণী অনুযায়ী, ২০২১ সালের ৪ আগস্ট রাজধানীর বনানীতে পরীমনির বাসায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ মদ ও মাদক উদ্ধারের দাবি করে র্যাব। পরদিন তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়। প্রায় এক মাস কারাভোগের পর জামিনে মুক্তি পান এই অভিনেত্রী। একই বছরের ৪ অক্টোবর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির পরিদর্শক কাজী গোলাম মোস্তফা পরীমনিসহ তিনজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। ২০২২ সালের ৫ জানুয়ারি মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত।
এই মামলায় পরীমনির পাশাপাশি তার ম্যানেজার আশরাফুল ইসলাম দিপু এবং কবীর হোসেন হাওলাদারকেও আসামি করা হয়েছে। ইতিপূর্বে মামলার বাদী র্যাব-১ এর কর্মকর্তা মজিবর রহমান আদালতে সাক্ষ্যপ্রদান শুরু করেছিলেন। তবে পরীমনি মামলার কার্যক্রম বাতিল চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করলে উচ্চ আদালত ২০২২ সালের মার্চে তার ক্ষেত্রে মামলার কার্যক্রম তিন মাসের জন্য স্থগিত করে রুল জারি করেছিলেন।
পরবর্তীতে উচ্চ আদালতের নির্দেশনার প্রেক্ষিতে মামলাটিতে পুনরায় অভিযোগ গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়। সেই ধারাবাহিকতায় সোমবার শুনানির দিন নির্ধারিত থাকলেও পরীমনির অনুপস্থিতির কারণে তা পুনরায় পিছিয়ে গেল।
২০২১ সালে পরীমনি এক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ তুলে দেশজুড়ে আলোচনার সৃষ্টি করেছিলেন। এর কয়েক দিনের মাথায় তার বাসায় র্যাবের অভিযান ও মাদক মামলাটি দায়ের করা হয়। বর্তমানে উচ্চ আদালতের নির্দেশ মেনে নিম্ন আদালতে মামলাটির বিচারিক প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।