৭৮ বছর বয়সেও মেলেনি বোচন বিয়ার বিধবা ভাতার কার্ড

বয়সের ভারে নুয়ে পড়েছেন ৭৮ বছরের বিধবা বোচন বিয়া। কাজ করার মতো শারীরিক শক্তি নেই। স্বামী-সন্তানদের কেউ পাশে নেই। সমাজের কিছু মানুষের সহযোগিতায় কোনোমতে চলছে তার জীবন। তবে এ বয়সেও পাননি সরকারের সুরক্ষা সহায়তা কার্ড।

বোচন বিয়া ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলার পাঠাননগর ইউনিয়নের মধ্যম শিলুয়া গ্রামের আজম মেস্তরী বাড়ির মৃত করিম উল্ল্যাহর স্ত্রী। প্রায় ২০ বছর আগে স্বামী মারা যাওয়ার পর দুই ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে সংসারের হাল ধরেন তিনি। মানুষের বাড়িতে কাজ করে মেয়েকে বিয়ে দেন। দুই ছেলের মধ্যে বড় ছেলে মারা গেছেন। ছোট ছেলে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে অন্যত্র থাকেন এবং মায়ের খোঁজখবর রাখেন না।

স্থানীয় বাসিন্দা মজিবুল হক জানান, স্বামীর রেখে যাওয়া বসতভিটা ছাড়া বোচন বিয়ার তেমন কোনো সম্পদ নেই। ঘরে নেই প্রয়োজনীয় আসবাবপত্রও। বয়সের কারণে এখন কাজ করতে না পারায় অন্যের সহযোগিতার ওপর নির্ভর করেই তার দিন কাটছে।

বোচন বিয়া বলেন, ‘এখন আর কাজ করার মতো শক্তি নেই। কিছু মানুষ সহযোগিতা করেন বলেই কোনোভাবে চলছি। অনেকবার ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে ভাতা পাওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু এখনো কোনো কার্ড পাইনি।’

শেষ বয়সে স্বামীর রেখে যাওয়া বসতভিটায় থাকতে চান তিনি। এ জন্য সরকারের পাশাপাশি সমাজের বিত্তবানদের সহযোগিতাও কামনা করেন তিনি।

তবে তার কাছে টাকা চাওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন পাঠাননগর ইউনিয়ন পরিষদের হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা মনিল বাবু। তিনি বলেন, বোচন বিয়ার ভোটার আইডি কার্ড না থাকায় ভাতার কার্ড করা সম্ভব হয়নি।

এ বিষয়ে ছাগলনাইয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ ফারহানা পৃথা বলেন, অসহায় বোচন বিয়ার বিষয়ে তাঁরা অবগত হয়েছেন। তাঁকে বয়স্ক ভাতার কার্ড করে দেওয়ার পাশাপাশি উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।