বিশ্ববাজারে কমেছে স্বর্ণের দাম

যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের (ফেড) পরবর্তী মুদ্রানীতির গতিপথ নিয়ে বিনিয়োগকারীদের অনিশ্চয়তার মধ্যে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম কিছুটা কমেছে। যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতির গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশের অপেক্ষায় থাকা বিনিয়োগকারীদের সতর্ক অবস্থানের প্রভাব পড়েছে বাজারে।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) রাত ১১টা ৫০ মিনিটে স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম ০.৩ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৩৭৬ দশমিক ৩১ ডলারে নেমে আসে। তবে দিনের শুরুতে দাম বেড়ে ৪ হাজার ৪৩৪ দশমিক ৮৪ ডলারে উঠেছিল, যা গত ৫ জুনের পর সর্বোচ্চ। এ সময় স্বর্ণের দাম ১০০ দিনের মুভিং অ্যাভারেজ ৪ হাজার ৩৮৭ দশমিক ৯২ ডলারের ওপরে ওঠার চেষ্টা করে।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ফিউচার মার্কেটে স্বর্ণের দাম প্রায় ০.৫ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৪৪১ দশমিক ১০ ডলারে স্থির হয়েছে।

জেনার মেটালসের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও জ্যেষ্ঠ মেটালস স্ট্র্যাটেজিস্ট পিটার গ্র্যান্ট বলেন, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হতে বাজার চলতি সপ্তাহে প্রকাশিতব্য মূল্যস্ফীতির তথ্যের দিকে তাকিয়ে আছে। বার্ষিক মূল্যস্ফীতি সহনীয় পর্যায়ে থাকলে তা স্বর্ণের দামের জন্য ইতিবাচক হতে পারে।

বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তা মূল্যসূচক (সিপিআই) এবং বৃহস্পতিবার উৎপাদক মূল্যসূচকের (পিপিআই) তথ্য প্রকাশ হওয়ার কথা রয়েছে। এসব তথ্যের ওপর ফেডের পরবর্তী মুদ্রানীতির সিদ্ধান্ত অনেকাংশে নির্ভর করতে পারে।

এর আগে গত শুক্রবার জুলাইয়ের দুর্বল কর্মসংস্থান প্রতিবেদন প্রকাশের পর সেপ্টেম্বরে ফেড সুদহার বাড়াতে পারে—এমন প্রত্যাশা থেকে সরে আসেন বিনিয়োগকারীরা। এর প্রভাবে সেদিন স্বর্ণের দাম এক লাফে ২ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছিল।

পিটার গ্র্যান্ট বলেন, দুর্বল কর্মসংস্থান প্রতিবেদনের পর সেপ্টেম্বরে সুদহার বাড়ানোর সম্ভাবনা কমে যাওয়ায় স্বর্ণের বাজারে এখনো শক্তিশালী চাহিদা রয়েছে।

তবে সিএমই ফেডওয়াচ টুলের তথ্য অনুযায়ী, বাজারে সেপ্টেম্বরে সুদহার বাড়ার সম্ভাবনা ৫০ শতাংশ এবং ডিসেম্বরে ৭৯ শতাংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ক্লিভল্যান্ড ফেডের প্রেসিডেন্ট বেথ হ্যাম্যাক সোমবার বলেন, ভবিষ্যতে হঠাৎ করে সুদহার বড় আকারে বাড়ানোর প্রয়োজন এড়াতে এখন থেকেই ধীরে ধীরে সুদহার বাড়ানোর উপযুক্ত সময় হতে পারে।

সাধারণত উচ্চ সুদহারের পরিবেশে স্বর্ণের মতো সুদবিহীন সম্পদে বিনিয়োগের আকর্ষণ কমে যায়।

এদিকে ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিও স্বর্ণের বাজারে প্রভাব ফেলছে। শান্তি চুক্তির বিষয়ে তেহরানের শর্তের জবাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজস্ব দাবি তুলেছেন। যুদ্ধ, হামলা ও বিক্ষোভে নিহতদের জন্য ইরানকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামও এক সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ের কাছাকাছি অবস্থান করছে।

সূত্র: রয়টার্স