মালয়েশিয়ার নেগেরি সেম্বিলানের পোর্ট ডিকসনে তিন বাংলাদেশি সহকর্মীকে হত্যার অভিযোগে গ্রেফতার বাংলাদেশি নাগরিক মো. ইদ্রিস আলীর (৪৩) বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে।
মালয় ভাষা ঠিকমতো বুঝতে না পারায় বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) তার বোঝার মতো ভাষায় অভিযোগ পড়ে শোনানোর দিন ধার্য করেছেন আদালত।
বুধবার (১২ আগস্ট) স্থানীয় ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির হন ইদ্রিস আলী। তার বিরুদ্ধে মো. নজরুল ইসলাম, মোহাসিন ও কিরণ মিয়াকে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে।
ম্যাজিস্ট্রেট নুরুল সাকিনাহ রসলির সামনে মালয় ভাষায় অভিযোগ পড়ে শোনানো হলে প্রথমে তিনি বুঝেছেন বলে মাথা নাড়ান। পরে আদালত বুঝতে পারেন, অভিযোগের বিষয়বস্তু তিনি পুরোপুরি বুঝতে পারছেন না। এজন্য বাংলাদেশি দোভাষী ডেকে এনে তার বোঝার মতো ভাষায় আবার অভিযোগ পড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
আদালতের অভিযোগ অনুযায়ী, চলতি মাসের শুরুতে পোর্ট ডিকসনের তামান লিঙ্গির একটি বাড়ির পেছনের গলিতে এবং সাউয়া মাঙ্গিস এলাকার একটি পামবাগানে বিকেল সাড়ে তিনটা থেকে চারটার মধ্যে এ তিনজনকে হত্যা করা হয়।
দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। দোষী সাব্যস্ত হলে মৃত্যুদণ্ড অথবা ৩০ থেকে ৪০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে। মৃত্যুদণ্ড না হলে সর্বোচ্চ ১২টি বেত্রাঘাতের শাস্তিও হতে পারে।
একই ঘটনায় আরেক বাংলাদেশি মো. কাজল মণ্ডলকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগেও অভিযুক্ত করা হয়েছে ইদ্রিস আলীকে। তামান লিঙ্গিতে বিকাল চারটার দিকে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।
সেশন আদালতে দণ্ডবিধির ৩০৭ ধারায় এ অভিযোগ আনা হয়েছে। এ ধারায় সর্বোচ্চ ১০ বছর কারাদণ্ড ও জরিমানার বিধান রয়েছে। সেশনস কোর্টের বিচারক তাসনিম আবু বকরও আগামী ১৩ আগস্ট অভিযুক্তের বোধগম্য ভাষায় অভিযোগ আবার পড়ার দিন ধার্য করেছেন।
নেগেরি সেম্বিলানের পাবলিক প্রসিকিউশনের পরিচালক ইংকু আহমাদ রাশদি ইংকু আবদুল্লাহ জানিয়েছেন, অভিযুক্তের জন্য জামিনের কোনো আবেদন করা হয়নি।