নোয়াখালীতে গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ, বিপাকে ২৯ হাজার গ্রাহক

এলএনজি টার্মিনালের সমস্যার কারণে নোয়াখালীতে গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। এতে জেলার প্রায় ২৯ হাজার ৩৫০ আবাসিক ও বাণিজ্যিক গ্রাহক এবং সাতটি সিএনজি স্টেশন গ্যাস সংকটে পড়েছে। হঠাৎ গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় রান্নাবান্নাসহ বিভিন্ন কাজে ভোগান্তিতে পড়েছেন গ্রাহকেরা।

বুধবার (১২ আগস্ট) দুপুর ১২টা থেকে বাখরাবাদ গ্যাসের আবাসিক, বাণিজ্যিক ও সিএনজি গ্রাহকদের গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। তবে কবে নাগাদ সরবরাহ স্বাভাবিক হবে, তা নিশ্চিত করে বলতে পারেনি কর্তৃপক্ষ।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নোয়াখালীতে প্রতিদিন গড়ে ১৬ থেকে ১৭ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের চাহিদা রয়েছে। গত সপ্তাহে হঠাৎ গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় জেলাজুড়ে সংকট দেখা দেয়। চলতি সপ্তাহের শুরুতে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলেও বুধবার দুপুর থেকে পুরোপুরি গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়।

এতে জেলার প্রায় ২৯ হাজার আবাসিক ও ৩৫০ বাণিজ্যিক গ্রাহক এবং সাতটি সিএনজি ফিলিং স্টেশন সরাসরি সংকটে পড়েছে।

মাইজদীর লক্ষ্মীনারায়ণপুর এলাকার বাসিন্দা মনোয়ারা বেগম বলেন, ‘গত সপ্তাহে গ্যাসের চাপ কম থাকলেও চুলা হালকা জ্বলত। দিনে বা রাতে কোনো একসময় কিছুটা গ্যাস পাওয়া যেত, তখন রান্না করা সম্ভব হতো। কিন্তু আজ দুপুর থেকে চুলা একেবারেই জ্বলছে না। এতে রান্নাবান্নাসহ দৈনন্দিন কাজে অনেক সমস্যা হচ্ছে।’

গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শহরের হোটেল-রেস্তোরাঁগুলোতেও দেখা দিয়েছে ভোগান্তি। কয়েকজন হোটেল কর্মচারী জানান, সকাল পর্যন্ত রান্নাবান্না স্বাভাবিক ছিল। দুপুরের দিকে হঠাৎ গ্যাস চলে যাওয়ায় খাবার প্রস্তুত ও পরিবেশন ব্যাহত হচ্ছে। বাধ্য হয়ে অনেক হোটেল ও রেস্তোরাঁ বেশি দামে সিলিন্ডার গ্যাস কিনে রান্নার কাজ চালাচ্ছে।

বাখরাবাদ নোয়াখালীর ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ব্যবস্থাপক নূর করিম বলেন, ‘দুপুর ১২টা থেকে ফেনী গ্রিডের প্রধান লাইন দিয়ে নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর ও ফেনীতে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, এলএনজি টার্মিনালে সমস্যার কারণে সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, গত সপ্তাহে গ্যাস সংকট থাকলেও নোয়াখালীর সোনাদলপুর ও বেগমগঞ্জ গ্যাসক্ষেত্র থেকে উৎপাদিত প্রায় ১০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস দিয়ে কিছু এলাকায় সরবরাহ চালু রাখা হয়েছিল। তবে বুধবার দুপুর থেকে জেলাজুড়ে গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে।

কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার নির্দিষ্ট সময় জানানো না হওয়ায় দ্রুত গ্যাস সরবরাহ চালুর দাবি জানিয়েছেন গ্রাহকেরা।