কক্সবাজারে আদালত চত্বরে গুলিবর্ষণের ঘটনায় বিএনপি নেতা কারাগারে

কক্সবাজার জেলা জজ আদালত প্রাঙ্গণে গুলিবর্ষণের ঘটনায় অবশেষে কারাগারে গেছেন বিএনপি নেতা লিয়াকত আলী ওরফে লিয়াকত মেম্বার।

বুধবার (১২ আগস্ট) দুপুরে কক্সবাজারের অতিরিক্ত জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক ইরফানুল হক চৌধুরী তার জামিন আবেদন না মঞ্জুর করে তাকে কারাগারে প্রেরণ করেছেন বলে জানিয়েছেন লিয়াকত মেম্বারের আইনজীবী গোলাম ফারুক খান কায়সার।

লিয়াকত আলী (৪৬) কক্সবাজার সদরের ঝিলংজা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের আকবর আলী মেম্বারের ছেলে। লিয়াকত ওই ওয়ার্ডের বর্তমান মেম্বার এবং ঝিলংজা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বপালন করছেন।

আদালত সূত্র জানায়, চলতি বছরের গত ২৪ মে বেলা ১১টার দিকে কক্সবাজার জেলা জজ আদালতের পেছনের গেটসংলগ্ন সড়কে গুলি বর্ষণের ঘটনা ঘটে। এতে মইনুদ্দিন নামে এক ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন। এসময় উপস্থিত লোকজন জিয়াউল নামে একজনকে ঘটনাস্থল থেকে আটক করেন। এ ঘটনায় কক্সবাজার সদর মডেল থানায় ব্যক্তি ও পুলিশ বাদী হয়ে অস্ত্র আইনে দুটি মামলা করে। পুলিশ বাদি হয়ে দায়ের করা মামলায় তদন্তে প্রাপ্ত আসামি হিসেবে নাম অন্তর্ভুক্ত হয় বিএনপি নেতা লিয়াকত আলীর। সেই মামলায় আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন চান তিনি। এসময় বিচারক তার আবেদন নাকচ করে তাকে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশনা দেন।

লিয়াকতের আইনজীবী গোলাম ফারুক খান কায়সার বলেন, আদালত এলাকায় গুলিবর্ষণের ঘটনায় অস্ত্র মামলায় চার্জশিটভুক্ত হলে জামিনের জন্য আত্মসমর্পণ করেন লিয়াকত মেম্বার। আদালত জামিন নামনজুর করে তাকে কারাগারে পাঠিয়েছেন।

কক্সবাজার সদর থানার ওসি শেখ মোহাম্মদ আলী জানান, ওই দিন (২৪ মে) গুলির আওয়াজ পেয়ে কোর্ট পুলিশের সঙ্গে পুলিশ সুপার কার্যালয়ের ডিবি, বিশেষ শাখাসহ সদর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে যান। তাৎক্ষণিক অভিযানে বিদেশি পিস্তলসহ এক যুবকসহ দুজনকে আটক করা হয়। লিয়াকত মেম্বারকে গুলি করা হয়েছে দাবি করে একটি মামলা করা হয়েছিল। আর পুলিশ বাদি হয়ে ৭ জনকে আসামি করে আরেকটি মামলা দায়ের করে। সেই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই রফিক তদন্তে ঘটনায় লিয়াকত মেম্বারের সম্পৃক্ততা পেয়ে উল্লেখ করে চার্জশিটে তাকেও আসামী করেন। সেই মামলায় তিনি বুধবার কারাগারে গেছেন।

এদিকে, গুলিবর্ষণের ঘটনার দিনই প্রচার পেয়েছিল একটি হত্যা মামলায় সাক্ষ্য দিতে আসা সাক্ষীকে তুলে নিতে গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটানো হয়েছিল। একজনকে তুলেও নিয়ে গেছে সন্ত্রাসীরা। আর প্রশাসনিক অনুকম্পা পেতে লিয়াকত মেম্বারকে আক্রান্ত করা হয়েছে বলে প্রচার করা হয়েছিল। কিন্তু গুলিবর্ষণ ও পরবর্তী সময়ে ধারণ করা একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার পেলে লিয়াকত মেম্বারদের পক্ষ থেকে আনা অভিযোগ পাল্টে যায়। ভিডিও বিশ্লেষণে উঠে আসে লিয়াকত গ্রপের সূক্ষ্ম পরিকল্পনায় ঘটনাটি ঘটিয়েছিল। এ ভিডিও প্রচারের পরই পুলিশ বাদি হয়ে পৃথক মামলাটি দায়ের করে।

অসমর্থিত অপর একটি সূত্র মতে, নিজের নামে অস্ত্রের লাইসেন্স পেতে লিয়াকত মেম্বার ও তার পরামর্শকরা আদালতের মতো একটি স্পর্শকাতর এলাকায় এমন নেক্কারজনক ঘটনা ঘটিয়েছেন।

এ ঘটনার মামলায় গত ৯ আগস্ট এজাহারভুক্ত ৩ নম্বর আসামি মো. মেহেদীকে (২২) র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব-১৫ গ্রেপ্তার করেছে। ওইদিন (রবিবার) বেলা ১১টার দিকে সদর উপজেলার ঝিলংঝা দক্ষিণ মুহুরিপাড়া শিকদার বাড়ি এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। মেহেদী দক্ষিণ মুহুরিপাড়া এলাকার মো. আব্দুল্লাহর ছেলে। আদালত এলাকায় গুলিবর্ষণ ঘটনায় লিয়াতক মেম্বারসহ মোট চারজনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে জানিয়েছেন ওসি মোহাম্মদ আলী।