ওমানের শ্রমবাজার খুলে গেছে, ব্যাপকভাবে ভিসা দেওয়া হচ্ছে কিংবা ‘ফ্রি ভিসা’ চালু হয়েছে—সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এমন প্রচারণাকে গুজব ও বিভ্রান্তিকর বলে সতর্ক করেছে বাংলাদেশ দূতাবাস, মাস্কাট।
বুধবার (১২ আগস্ট) এক ভিসাসংক্রান্ত সচেতনতামূলক বিজ্ঞপ্তিতে দূতাবাস জানায়, ওমান সরকার এখনো বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ, ভিসা ইস্যু বা দেশটির শ্রমবাজার উন্মুক্ত করার বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়নি।
সম্প্রতি ওমানি এগ্রিকালচারাল অ্যাসোসিয়েশনের একটি বিজ্ঞপ্তিকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘ওমানের শ্রমবাজার খুলে গেছে’, ‘ব্যাপক ভিসা চালু হয়েছে’ বা ‘ফ্রি ভিসা দেওয়া হচ্ছে’- এ ধরনের বিভ্রান্তিকর প্রচারণা লক্ষ্য করা যাচ্ছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
দূতাবাস জানিয়েছে, ওই বিজ্ঞপ্তিটি ওমান সরকারের পক্ষ থেকে শ্রমবাজার উন্মুক্ত করার কোনো ঘোষণা নয়। বিজ্ঞপ্তিতে আল ধাহিরাহ অঞ্চলে কৃষি শ্রমিকের চাহিদা নিরূপণ করে প্রয়োজন হলে কেবল ওই অঞ্চলের কৃষিকাজের জন্য সীমিত পরিসরে ভিসা অনুমোদনের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। এ পর্যায়ে কর্মী নিয়োগ, ভিসা ইস্যু বা শ্রমবাজার উন্মুক্ত করার কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি।
বর্তমানে ওমান সরকার শ্রমবাজার পুনর্বিন্যাস ও ‘ওমানাইজেশন’ নীতির আওতায় বিদেশি কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে বিভিন্ন বিধিনিষেধ কার্যকর রেখেছে। তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত ‘ওমানের শ্রমবাজার খুলে গেছে’, ‘ব্যাপক ভিসা চালু হয়েছে’ বা ‘ফ্রি ভিসা দেওয়া হচ্ছে’-এ ধরনের বিভ্রান্তিকর প্রচারণায় বিশ্বাস না করার জন্য সবাইকে অনুরোধ জানিয়েছে দূতাবাস।
এ ধরনের প্রচারণায় বিশ্বাস করে কোনো ব্যক্তি, সুবিধাভোগী বা প্রতিষ্ঠানের কাছে অর্থ প্রদান থেকেও বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ওমানে কর্মসংস্থান ও ভিসাসংক্রান্ত যেকোনো তথ্য বাংলাদেশ দূতাবাস, মাস্কাট, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) এবং ওমান সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক সূত্র থেকে যাচাই করার জন্য সবাইকে অনুরোধ করা হয়েছে।
বাংলাদেশ দূতাবাস জানিয়েছে, বিষয়টি তারা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। এ বিষয়ে যেকোনো অগ্রগতি দূতাবাসের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ ও ওয়েবসাইটে যথাসময়ে জানানো হবে।
দূতাবাসের পক্ষ থেকে সবাইকে গুজবে কান না দিয়ে সরকারি ও নির্ভরযোগ্য সূত্রের তথ্যের ওপর আস্থা রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।