চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণে মোবাইল ফোন চুরির সন্দেহে মো. তারেক ঢালী (১৮) নামে এক যুবককে গাছে বেঁধে মারধরের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েকজনের বিরুদ্ধে। অভিযোগ অনুযায়ী, নারিকেল গাছের ডাল দিয়ে পেটানোর পাশাপাশি তার মাথায় গামছা বেঁধে গরম পানি ঢালা হয়। প্রায় ৬-৭ ঘণ্টা ধরে নির্যাতনের পর তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটে মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) ভোরে উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের গোবিন্দপুর গ্রামের দক্ষিণ পাড়া প্রধানীয়া বাড়িতে। এ ঘটনায় সফিক প্রধান (৩৫) নামে একজনকে বুধবার (১২ আগস্ট) সন্ধ্যায় আটক করেছে পুলিশ।
আহত তারেক ঢালী ওই গ্রামের মৃত জাকির হোসেন ঢালীর ছেলে। তিনি ঢাকায় চাকরি করেন। তার ছোট ভাই মো. রাসেলও (১৩) তার সঙ্গে কাজ করে। ছুটিতে বাড়িতে থাকার সময় মঙ্গলবার ভোরে পাশের প্রধানীয়া বাড়ির আল-আমীন, সফিক, তানিম ও মোতালেব তাকে ঘুম থেকে তুলে নিয়ে যান বলে পরিবারের অভিযোগ।
তারেকের মা খুকী বেগম অভিযোগ করেন, মোবাইল ফোন চুরির সন্দেহে তার ছেলেকে প্রধানীয়া বাড়িতে নিয়ে গাছের সঙ্গে বেঁধে মারধর করা হয়। তিনি বলেন, ‘আমার ছেলেকে ঘুম থেকে উঠিয়ে নিয়ে যায়। কেন নিয়ে যাচ্ছে, সে বিষয়ে কোনো কথা বলেনি। পরে মোবাইল চুরির কথা বলে সন্দেহের বশে গাছের সঙ্গে বেঁধে নারিকেল গাছের ডাল দিয়ে পিটায়। এরপর মাথায় গামছা বেঁধে গরম পানি ঢালে।’
তার দাবি, থেমে থেমে প্রায় ৬-৭ ঘণ্টা ধরে তারেককে মারধর করা হয়। বিকেল ৩টা থেকে ৪টার দিকে স্থানীয় সোবহান ঢালী, মো. রাকিব প্রধান, শরীফুল ইসলাম ও নবী উল্লাহ পাটোয়ারী তাকে উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে আসেন।
খুকী বেগম বলেন, ‘১২ বছর আগে ওর বাবা মারা গেছে। খেয়ে না খেয়ে দুই ছেলেকে নিয়ে জীবন কাটাই। টাকার অভাবে ছেলেকে ভালোভাবে চিকিৎসা করাতে পারছি না। বিনা অপরাধে যারা আমার ছেলেকে মারছে, আমি গরিব মা হিসেবে তাদের বিচার চাই।’
স্থানীয় নবী উল্লাহ পাটোয়ারী বলেন, তারেক ও তার ভাই ঢাকায় শহীদুল্লাহ হলের ক্যান্টিনে কাজ করেন। তারেককে হত্যার উদ্দেশ্যে ঘর থেকে তুলে নেওয়া হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। জড়িতদের শাস্তি দাবি করেন তিনি।
বুধবার আহত তারেককে দেখতে তার বাড়িতে যান মতলব দক্ষিণ থানার ওসি হাফিজুর রহমান মানিক। ওসি বলেন, ‘অভিযুক্ত সফিক প্রধানকে আজ সন্ধ্যায় এলাকা থেকে আটক করা হয়েছে। মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’