৫ হাজার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলে করতেন প্রতারণা, ইনফ্লুয়েন্সার গ্রেপ্তার

ভারতে প্রতারণার মাধ্যমে এক বৃদ্ধের কাছ থেকে ১০ কোটি ৭৪ লাখ রুপি হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে রোহান যাদব নামে এক ফেসবুক ইনফ্লুয়েন্সারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তদন্তে তার সঙ্গে ৫ হাজার ৪৩৬টি ব্যাংক অ্যাকাউন্টের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, যাদবের সব ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও আর্থিক উৎস জব্দ করা হয়েছে। এরপর তিনি নিজেই আদালতে আত্মসমর্পণ করেন।

তদন্তে জানা গেছে, চলতি বছরের জানুয়ারিতে একদল প্রতারক সেন্ট্রাল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (সিবিআই) কর্মকর্তা পরিচয়ে ওই বৃদ্ধের সঙ্গে যোগাযোগ করে। তাকে একটি মামলায় অভিযুক্ত করা হয়েছে বলে ভয় দেখানোর পাশাপাশি গ্রেপ্তারের হুমকিও দেওয়া হয়। আইনি ব্যবস্থা এড়াতে তাকে বিভিন্ন ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ১০ কোটি ৭৪ লাখ রুপি স্থানান্তরের নির্দেশ দেয় প্রতারকরা।

প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পেরে ওই বৃদ্ধ পুলিশের কাছে অভিযোগ করেন। পরে প্রতারক দলের এক সদস্য এটিএম থেকে টাকা তোলার সময় পুনে পুলিশের হাতে ধরা পড়েন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হর্ষদ সুভাষ ধানতোল, সমর্থ সুরেশ দেশমুখ ও অমর শিবাজি আত্তার্গীকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে ধানতোল জানান, এটিএম থেকে টাকা তুলে তিনি তা রোহান যাদবের কাছে পৌঁছে দিতেন। এরপর তদন্তে যাদবের সঙ্গে বিপুলসংখ্যক ব্যাংক অ্যাকাউন্টের লেনদেনের যোগসূত্র সামনে আসে।

পুলিশের দাবি, প্রতারণার মাধ্যমে পাওয়া ১০ কোটি ৭৪ লাখ রুপি যাদব মোট ৫ হাজার ৪৩৬টি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করেছিলেন। তদন্তে আরও জানা যায়, টেলিগ্রাম অ্যাপের মাধ্যমে তিনি হংকংয়ের কয়েকজন ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন এবং নিয়মিত ভিডিও কলে কথা বলতেন।

কর্মকর্তারা জানান, হংকংয়ে থাকা কথিত হ্যান্ডলারদের সঙ্গে ডিজিটাল ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে আর্থিক লেনদেন করতেন যাদব। ভারত থেকে বৈদেশিক মুদ্রায় অর্থ পাঠানোর বিনিময়ে তিনি মোটা অঙ্কের কমিশন পেতেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

পুলিশ আরও জানিয়েছে, রোহান যাদব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইনফ্লুয়েন্সার হওয়ার পাশাপাশি সেলিব্রিটি ম্যানেজমেন্টের কাজও করতেন। তাঁর বিরুদ্ধে পুনে এবং পিম্পরি-চিঞ্চওয়াড়ে দুটি মামলা করা হয়েছে।

সূত্র: এনডিটিভি